আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন

শেয়ার করুনঃ

সৈয়দ জুয়েল: ফিনেফলের মিহল মার্টিন হলেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে সরকার গঠনে যে জটিলতা চলছিল তার অবসান হলো গতকাল। আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসে একশো বছর পরে দেশের দুই বৃহত্তম দল ফিনেফল ও ফিনেগাল এক জোগ হয়ে সরকারের অংশ হলেন। ফিনেফল, ফিনেগাল, গ্রীন পার্টি নিয়ে যে কোয়ালিশন সরকার গঠন হলো তা আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসে এই প্রথম। সরকার গঠনে তিনটি দলই গুরত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় ভাগাভাগির কাজটা সেরে নিয়েছে বেশ দক্ষতার সাথেই। তবে এ সরকার গঠনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে, তা হলো- দেশের ক্রান্তিলগ্নে দলের চেয়ে দেশ বড়।

দলের গঠনতন্ত্রে ফিনেগাল, ফিনেফলে অনেক ফারাক আছে। তবে দেশ গঠনে একতন্ত্র। দেশটিতে করোনায় যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যেই একজোগেই কাজ করবে দুই মেরুর দুটি দল। গনতন্ত্রের শিক্ষা আসলে এটাই। এশীয় ঘরানার রাজনীতি যারা এ সব দেশে করেন, তাদের জন্য এটা বড় এক বার্তা।
দলীয় কোন্দল বা রাজনৈতিক আদর্শের অমিলে মাঠ গরম না করে দেশের স্বার্থে মাঠ গরমে সাধারন মানুষ রাজনীতিবিদদের মনে রাখেন হাজার বছর। এ সহজ কথাটার উত্তর অনেক রাজনৈতিক দলই বুঝেননা বা বুঝলেও না বুঝার ভান করে থাকেন। করোনায় আইরিশ সরকারের সদ্য সাবেক হওয়া প্রধানমন্ত্রী লিও ভরদকারকেও এদেশের মানুষ মনে রাখবেন সেরকম হাজার বছর। বিশ্বে এক মাত্র আয়ারল্যান্ড সরকারই এই দূর্যোগে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে তার জনগনকে। জনগনকে ঘরে থাকতে সব ধরনের সহায়তায় অনেক মৃত্যু রোধও করতে পেরেছিলো দেশটি। করোনায় পুরো বিশ্বজুড়েই আর্থিক মন্দা দেখা দিয়েছে,আয়ারল্যান্ডও তার ব্যাতিক্রম নয়। আর্থিক যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে অনেক পরিশ্রম করতে হবে নতুন এ সরকারকে।
আবাসন ও স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা সমাধানেও বড় এক চ্যালেন্জ হয়ে আসবে এ সরকারের। তবে দ্রুত এ সমস্যা কাটিয়ে উঠার মত পলিসি এ দুই বৃহত দলের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের যথেস্টই আছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *