বাউফলে সাংসদ ও মেয়র অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত-১০

শেয়ার করুনঃ

নাগরিক রিপোর্ট: পটুয়াখালীর বাউফলে সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ ও মেয়য় মো: জিয়াউল হক জুয়েল গ্রæপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী তাপসকে (২৫) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে এবং পঙ্কজকে (৩৫) বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার ডাকবাংলোর সামনে তোরণ নির্মাণ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দলীয় ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জানান, রোববার দুপুর ১টার দিকে পৌর শহরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর সামনে বাউফল পৌরসেভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক জুয়েলের পক্ষে করোনাভাইরাসের সংক্রমনরোধে প্রচারের জন্য একটি তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছিল। এসময় সাংসদ আসম ফিরোজ গ্রæপের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুকের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী এসে বাধা দেয়। খবর পেয়ে মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল ঘটনাস্থলে আসলে ইব্রাহিম ফারুকের সাথে তার তর্কবিতর্ক হয়। এসময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা মারমুখি হয়ে পরে। ধাওয়াপাল্টা ধাওয়ায়র এক পর্যায়ে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টায় ধরে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাউফল সার্কেলের সিনিয়র পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক হোসেনের মধ্যস্থতায় মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল ও ইব্রাহিম ফারুককে নিয়ে ওসির রুমে সমঝোতার চেস্টা চলে। এক পর্যায়ে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির মোল্লার নেতৃত্বে কালাইয়া থেকে ২০-৩০ জন লোক মটর সাইকেলযোগে ডাকবাংলোর সামনে এসে জয়বাংলা ¯েøাগান দিয়ে তোরণের বাঁশের খুটি ভেঙ্গে ফেলে। এসময় মেয়র গ্রæপ উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা ডাকবাংলোর মধ্যে আশ্রয় নেয়। তখন এমপি গ্রæপের ছাত্রলীগ কর্মী তাপস (২৫), পঙ্কজ (৩৫) আহত হয়।
এ ঘটনার আগে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় একই গ্রæপে নাজিরপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ও ছাত্রলীগ কর্মী শামীম এবং মেয়র গ্রæপের যুবলীগ কর্মী ইব্রাহিম (৩৫), বাউফল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ (২৫) আহত হয়। পুলিশ লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে। আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী তাপসকে (২৫) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পঙ্কজকে (৩৫) বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক জুয়েল সাংবাদিকদের বলেন, ইব্রাহিম ফারুকে নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে তোরণ নির্মাণকালে বাধা দেয় এবং তোরণের মালামাল ভাংচুর করে।
এব্যপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাজিরপুরের ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মাঠ পর্যায়ে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এরপর আর নতুন করে কিছুই বলার নেইম বলতেও চান না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *