তিন চাকার যাত্রীরা বাস মালিকদের লাঞ্চনার শিকার

Spread the love

নাগরকি রিপোর্ট: ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের ৩০ কিলোমিটার পড়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এলাকার মধ্যে। কিন্তু নগরীর দক্ষিনাংশের মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল করতে দিচ্ছে না বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতি। মহাসড়ক নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের দোহাই দিয়ে তারা থ্রি-হুইলার চলতে বাঁধা দিচ্ছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে চেক পয়েন্টের নামে লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে প্রতিদিন একাধিক থ্রি-হুইলার যানবহন ভাংচুর ও যাত্রীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বরিশাল অংশে শিকারপুর সেতু থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খয়রাবাদ সেতু পর্যন্ত বিএমপি পুলিশের আওতায় পড়েছে। কিন্তু বাস মালিকরা বিএমপি আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় অবৈধভাবে থ্রি-হইলার (টেম্পু-সিএনজি-ইজিবাইক ইত্যাদি) চলতে দিচ্ছেনা। অপরদিকে বাস মালিক সমিতির নেতাদের দাবী- পুলিশ সঠিকভাবে কাজ না করায় তারা সরকারি আইন বাস্তবায়ন করতে পয়েন্ট বসিয়েছেন।

বিএমপির ট্রাফিক পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস মালিক সমিতির চেক পয়েন্টের নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ট্রাফিক বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। মালিক সমিতির নিযুক্ত প্রত্যেকের হাতে থাকে লাঠি ও পকেটে ধারালো যন্ত্রাংশ। তাদের সামনেই টেম্পু শ্রমিকদের নির্দয়ভাবে মারধর ও যাত্রীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে থ্রি-হুইলারের চাকা ছিদ্র করে দেয়া হেেচ্ছ। এমনকি দায়িত্বরত ট্রাফিক কর্মকর্তার ওপর চাপ দেয়া হয় থ্রী-হুইলার চালকের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনে মামলা করার জন্য। এমন পরিস্থিতিতে বেশীরভাগ মাঠ কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দায়িত্বপালন করতে অনীহা জানিয়েছেন।

এ রুটের সিএনজি চালক মো: রিয়াজ বলেন, কয়েকদিন আগে তিনি এক গর্ভবতী নারীকে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাস মালিক সমিতির লোকজন ওই রোগীকে নামিয়ে দেয় এবং তাকে ((রিয়াজ) মারধর করে। ঈদে ফেরা ঝালকাঠীর নলছিটির একাধিক বাসিন্দা জানান, তারা লঞ্চযোগে সিএনজি কিংবা মাহিন্দ্রা নিয়ে চাইলেই যেতে পারছেন না। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মোড়ে বাস মালিকদের বাহিনী বাধা দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তারা সিএনজি কিংবা অটো নিয়ে সেতু পেড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসপাশের মেসে যেতে পারেন না। আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু দেখতে আসা অনেক দর্শনার্থী অভিযোগ করেছেন, সেতুতে ৩ চাকার যান নিয়ে উঠতে বাধা দিচ্ছে।

বরিশাল থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবু বলেন, বাস মালিক বাহিনীর এমন কর্ম এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিনত হয়েছে। সমস্যা সমাধানে তাদের সঙ্গে প্রশাসন একাধিকবার বৈঠক করেছে। টেম্পু শ্রমিকদের সঙ্গে মারামারি মামলা মোকাদ্দমা হয়েছে। বাবু বলেন, দুই বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রোগীবাহি একটি টেম্পু বাস মালিকরা আটকে রাখলে সেখানেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়। যাত্রী থ্রী-হইলারে বাড়িতে রওনা হলে তাদেরকে লাঞ্ছিত করছে বাস মালিকদের লাঠিয়াল বাহিনী।
তবে বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন উল্টো অভিযোগ করে বলেন, ট্রাফিক পুলিশ ঠিকমতো কাজ করে না। এ সুযোগে থ্রি-হুইলার যানবহন মেট্রো এলাকার ছেড়ে মহাসড়কে ঢুকে যায়। এসব বন্ধ করার জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছেন। চালক ও যাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এব্যাপারে বিএমপির উপ কমিশনার (ট্রাফিক) জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, বাস মালিকরা যা করছেন পুরোটাই অবৈধ। কারন মহাসড়কের যে অংশ মেট্রোপলিটন পুলিশের এলাকার মধ্যে পড়বে সেখানে জাতীয় মহাসড়ক আইন কার্যকর হবে না। মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনে মহাসড়কের এ অংশে থ্রি-হুইলার চলাচলের বৈধতা আছে। উপ কমিশনার বলেন, বিএমপি এলাকার মধ্যে থ্রীহুইলার চলাচলে বাঁধা না দেয়ার জন্য তিনি বাস মালিকদের বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *