নাগরিক রিপোর্ট
বরিশালের হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নে বালু মহাল ইজারার নামে সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে মেঘনায় দেদাড়ছে বালু কাটায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। ইউনিয়নের শ্যাওরা, সৈয়দখালী এলাকায় এই নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারন মানুষ। ইজারাদার আবুল বাছেত পার্শবর্তী চাঁদপুর-শরীয়তপুরের লোকজন নিয়ে নির্দিস্ট এলাকার বাহিরে গিয়ে বালু কাটছেন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এভাবে অবৈধভাবে বালু কাটায় প্রশাসনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মঙ্গলবার বরিশালে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন হিজলা উপজেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট মাহাবুবুল আলম দুলাল। যদিও অভিযুক্ত বালু মহাল ইজারাদার আবুল বাছেত দাবী করেছেন, তার কাছে ১৫ লাখ টাকা উৎকোচ চেয়েছেন অ্যাড. দুলাল।
নগরের একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এ্যড. মাহাবুবুল আলম দুলাল। তিনি বলেন, হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের শ্যাওরা সৈয়দখালী এলাকায় ইজারাদার আবুল বাছেত একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ে চাঁদাবাজী, লুটতরাজ করে যাচ্ছে। তিনি পার্শবর্তী চাদঁপুর, শরীয়তপুর, ভোলার সন্ত্রাসী দিয়ে বালু কেটে ওই এলাকায় তীব্র নদী ভাঙন ঘটাচ্ছে। ইজারাদার বালু মহালের শর্ত ভঙ্গ করে দিন রাত বালু কাটছেন। এতে মেঘনার তীর ভেঙ্গে বিপন্ন জনপদে পরিনত হচ্ছে হিজলা। তিনি দাবী করেন জেলা প্রশাসন থেকে যেখানে বালুমহালের জন্য বালু কাটার অনুমতি দেয়া হয়েছে সেখানে না কেটে বসতী এলাকা ঘেষে বালু কাটায় ক্ণতিগ্রস্থ হচ্ছে মানুষ।
সংবাদ সস্মেলনে উপজেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এ্যাড. দুলাল আরও বলেন, ২০০৮ সালের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমি দস্যুরা হাজার হাজার একর জমি দখল করে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর গৌরবদী ও ধুলখোলায় ব্যাপক লুটপাট, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাস ঘটেছে। সরকারি বালুমহলকে কেন্দ্র করে আন্তজেলা অপরাধী সিন্ডিকেট কোটি টাকার বাণিজ্যে লিপ্ত থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বালুমহলের উপ বিডার জাকির শিকদারের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় ১৫–২০ শ্রমিক আহত হলেও মামলার অগ্রগতি নেই। তিনি জানান, এ ঘটনা বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজিকে অবহিত করায় অতিরিক্ত পুলিশ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দুলাল বলেন, “হিজলার মানুষ আজ ভয়াবহ নদীভাঙন ও সন্ত্রাসের মাঝে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
তবে হিজলার বালু মহালের ইজারাদার আবুল বাছেত বলেছেন, তিনি ৩৭ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে বালুমহল পরিচালনা করছেন। ওই বালু মহাল বন্ধে একটি চক্র রিট দায়ের করেন। এ অবস্থায় আইনী লড়াই এর জন্য হিজলার বাসিন্দা অ্যাড. মাহবুবুল আলম দুলালের সহায়তা নেন। তাকে কিছু টাকাও দেয়া হয়। কিন্তু এ্যাড. দুলাল এক পর্যায়ে রিট পিটিশনের জবাব না দিয়ে উল্টো তার (বাছেত) কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবী করেন। এ অবস্থীয় অন্য আইনজীবীর সহায়তায় রিট এর বিপরীতে আইনী লড়াই করেন। অ্যাড. দুলাল উৎকোচ না নিতে পারার ক্ষোভে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, হিজলা ইউএনও এর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বালু কাটছি। শর্ত ভঙ্গ করলে প্রশাসন দেখবে, তিনি কে? আমি তার (দুলাল) বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেব।
