নাগরিক রিপোর্ট
রাজনৈতিক ব্যানার, পোস্টারে ঢেকে গেছে বরিশালের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। বিশেষ করে নগরের প্রান কেন্দ্র বিবির পুকুর, অশ্বিনী কুমার টাউন হল, চৌমাথা লেকে বিএনপি, জামায়ত নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার দিয়ে ভরে তুলেছে তাদের অনুসারীরা। যদিও ব্যানার সাটানো এধরনের অধিকাংশ মৌসুমী কর্মীদের চিনেন না নেতারা। কেবল নেতাকে খুশি করতে যে যেভাবে পাড়ছেন ব্যানার সাটাচ্ছেন। সৌন্দর্য্য বিনস্ট করে নগর জুড়ে ব্যানার ফেস্টুন অপসারনে সিটি করপোরেশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ।
সোমবার নগরের প্রান কেন্দ্র সদর রোড দাড়িয়ে দেখা গেল বিবির পুকুরের পশ্চিম পাশ বিএনপি ও জামায়ত নেতাদের ব্যানার, ফেস্টুনে ঢেকে আছে। এসময় একাধিক পথচারী অনেকটা হতাশ হয়ে বলছেন ‘বিবির পুকুর’ কোথায়? অদুরে সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে গিয়ে দেখা গেল সেটি খুজেই পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যানারের ফাঁক দিয়ে লাল বিল্ডিংটা কোনরম দেখা গেল। একই চিত্র নগরের চৌমাথা লেক, জেলখানার মোড়, জিলাস্কুল মোড়, নাজিরের পুল, আমতলা, নথুল্লাবাদ, সাগরদি, রুপাতলী সহ নানা স্থানে। এধরনে অধিকাংশ ব্যনারই রাজনৈতিক নেতাদের। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেস্টা মজিবর রহমান সরোয়ার এর ছবি সম্বলিত ব্যানার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে এই নগরে।
এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবু নেসার মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জামায়াতে ইসলামী এর কেন্দ্রীয় এ্যাসিটেন্ট সেক্রেটারী জেনারেল মোয়াযযম হোসেন হেলাল, দক্ষিন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন, মহানগর বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান ফারুক, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আফরোজা খানম নাসরিনের ব্যানার, পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগর। যার কারনে ঢাকা পড়েছে এই নগরের সৌন্দর্য্য।
খোজ নিয়ে জানা গেছে এদের সকলেই আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী। বরিশাল জেলা (দক্ষিন) বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন গত বুধবার ফেসবুকে লেখেন, ’বরিশাল নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।’ এ প্রসঙ্গে শাহিন বলেন, এগুলো যার করে তাদের রুচির সমস্যা আছে। আমাকে অনেকে বলেছে সদর রোডে ব্যানার করতে। কিন্তু আমি করেছি জিলা স্কুল মোড়ে। আসলে আমাদের বিবেক দিয়েই উচিৎ নগরের সৌন্দর্য্য রক্ষা করা। শাহিন বলেন, যারা এই ব্যানরগুলো নেতাদের ছবি দিয়ে সাটাচ্ছে দেখা যাবে তাদের কোন পদ পদবী নেই। আন্দোলন সংগ্রামেও ছিলেন না। কেবল নিজেকে জাহির করার জন্য একশ্রেনীর নেতাকর্মী এসব করছে। তবে দল থেকে নির্দেশনা না থাকায় কিছুই করা যাচ্ছে না।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, জাতীয় নির্বাচনের খবরে প্রার্থীরা রাজনৈতিক কর্মকান্ড ফুটিয়ে তুলতে ব্যানার সাটাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নিজেকে আকর্ষন করার জন্যও ব্যানার, পোস্টার সাটাচ্ছেন। তার মতে, এগুলো রাজনৈতিক কালচারে পরিনত হয়েছে। নগরের সৌন্দর্য্য নস্ট করে এভাবে ব্যানার, পোস্টার সাটানোয় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বরিশালের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, নেতারা বাধ্য করছেন নগরবাসীকে তার ছবি দেখতে। এটা যে দৃস্টিকটু এবং পরিবেশের জন্য সৌন্দর্য্য হানীকর তা কে বোঝাবে নেতাদের। তিনি বলেন, যে কোন সাইনবোর্ড টানালে বিসিসিকে টাকা পরিশোধ করতে হয়। বিসিসি কেন নেতাদের বলে না যে, আপনারা বিল দিয়ে ডিজিটাল ব্যানার ব্যবহার করুন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারীকে এ বিষয়ে জানতে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে বিসিসির বিজ্ঞাপন সহকারি মাহবুবুর রহমান বদল বলেন, আমরা কোন রাজনৈতিক ব্যানার সাটানোর অনুমতি দেইনি। রাজনৈতিক ব্যানার যখন যার দরকার তখন তিনি সাটান। কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে আমরা খুলে ফেলি। তবে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা তারা পাননি।
