নলছটিতে বিএনপির শোকসভায় মঞ্চ দখল, দুই পক্ষে হাতাহাতি

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ঝালকাঠির নলছিটিতে আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, মঞ্চ দখল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সংঘটিত এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা হতভম্ব হয়ে যান। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

শুক্রবার নলছিটি উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝালকাঠী-২(সদর-নলছিটি) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

শোক সভায় সময় স্বল্পতার দোহাই দিয়ে উপজেলা বিএনপির একাংশকে বক্তব্য দিতে বাধা দেয়া হয়। এর জেরে হঠাৎ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি বক্তব্যরত জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টুর হাত থেকে মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেন। মুহূর্তেই মঞ্চে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দুই পক্ষ মঞ্চে উঠে সিনিয়র নেতাদের সামনে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এর ফলে শোক সভার কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপনসহ উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সেলিম গাজী বলেন, শুক্রবার বিকেলে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগ স্মরন সভা হয়। আমি উপজেলার সম্পাদক কিন্তু আমাকে বক্তব্য দিতে বাধা দেয়। নলছিটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তৌহিদ আলম মান্না সভা পরিচালনা করেন। আমাদের বক্তৃতা দিতে না দেয়ায় নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে বিএনপি প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে বলেন। এসময় স্বেচ্ছাসেবক দলের পারভেজ বলেন, সেলিম গাজী কথা বলতে পারবে না। এক পর্যায়ে মান্না আমাকে ধাক্কা দেয়। আমার সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মী ছিলেন। ওরা আমার সঙ্গে দুর্ব্যাবহার করেছেন। আমি বিএনপির সাধারন সম্পাদক আমাকে কথা বলতে দেয় না। জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা সালু এবং পারভেজ এসব করেছে।

অপরদিকে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু বলেন, শোক সভায় সেলিম গাজী বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সময় কম থাকায় নলছিটি থেকে একজনই বক্তব্য দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তিনি বলেন, দলাদলি ছিল তো তাই মাথা একটু গরম ছিল কারো কারো।

শোক সভায় উপস্থিত একাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে এ ধরনের বেপরোয়া আচরণে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এতে সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠির দুইটি আসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্রুপিং রাজনীতির রেশ থেকেই এ ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন নেতাকর্মীরা।