নাগরিক রিপোর্ট: বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনের (সিমিউই-৫) পাওয়ার ক্যাবল কাটা পরার ১৩ ঘন্টা পর সংযোগ পুন:রুদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও সারাদেশের ইন্টারনেট সার্ভিস পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ ঘটনায় সোমবার পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার আলীপুর থেকে ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ওরফে হোসেন মোল্লা এবং তার পার্টনার আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, হোসেন মোল্লা কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ: বারেক মোল্লার ভাই। মহিপুর থানায় ৮জনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত ৩টায় কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সিকিউরিটি অফিসার মো: হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। স্থানীয় সুত্র দাবী করেছে, কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই পৌর মেয়রের ক্ষমতা ব্যবহার করে ওই জমির উন্নয়ন কাজ করছিল তার (মেয়র) ভাই হোসেন মোল্লা।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, মহিপুর থানা পুলিশ সোমবার কুয়াকাটার আলীপুর থেকে ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ওরফে হোসেন মোল্লা ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনার আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। ওই মামলায় পাঁচজনের নামসহ আরও অজ্ঞাত তিন জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়।
কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের ইনচার্জ ডিজিএম মো: তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের ইন্টারনেট সেবা সচলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংযোগ কাটা পরে প্রায় ১৩ ঘন্টা পর্যন্ত কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ থাকায় কি পরিমান আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তারিকুল বলেন, সংযোগ পুনরুদ্ধারে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া ক্যাবল কাটা পড়ার পর থেকে দীর্ঘ ১৩ ঘন্টায় পার সেকেন্ডে ৭শ‘ ৬০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার বন্ধ থাকার ফলে বিএসসিসিএল কি পরিমান আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা এখনও টাকার অংকে পরিমাপ করা যায়নি। সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ার কয়েক ঘন্টা পরই ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান।
সোমবার কুয়াকাটা ল্যাডিং স্টেশনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিএসসিসিএল এমডি মশিউর রহমান বলেন, সংযোগ আপাতত পুনরুদ্ধার হলেও পুরোপুরি সচল করতে আরও বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে।
কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন, ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ২ কিলোমিটার দুরত্বে লতাচাপলী ইউনিয়নের আলীপুর বাজার সংলগ্ন কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ: বারেক মোল্লা ও লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লার ভাই আবুল হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যবসায়ীর ব্যক্তি উদ্যোগে একটি জমির উন্নয়ন কাজ করছিলেন। জানা গেছে, কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই পৌর মেয়রের ক্ষমতা ব্যবহার করে ওই জমির উন্নয়ন কাজ করছিল তার ভাই হোসেন মোল্লা। এমন কি বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত না করেই খননযন্ত্র দিয়ে কাজ করার সময় ল্যান্ডিং স্টেশনের পাওয়ার ক্যাবল কেটে সেসময় আগুন ধরে যায়। এরপর তারা কাজ ফেলে রেখে চলে গেলেও ততক্ষণে কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে সারা দেশের ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মামলার বাদী কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সিকিউরিটি অফিসার হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, তাদের অবহিত না করে বেড়িবাঁধ লাগোয়া মাটির তলায় রাখায় সাবমেরিন ক্যাবল খননযন্ত্র দিয়ে কেটে ফেলেছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ছিল।
এব্যপারে মহিপুর থানার ওসি মনিরুজ্জমান বলেন, সাবমেরিনের ক্যাবল কাটার ঘটনায় সোমবার রাত তিনটার দিকে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় সোমবার দুই জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

