রাজনৈতিক হত্যার নেপথ্যে কাছের মানুষ

Spread the love

সৈয়দ জুয়েলঃ রাজনীতির মাঠে একটি কথা প্রচলন আছে- রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। প্রায় অনেক ক্ষেত্রেই এ কথাটির সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, যার এক ডাকে লক্ষ লক্ষ লোক জমায়েত হত, মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিলো যার বজ্রকন্ঠ শুনে, সেই বঙ্গবন্ধু সহ ১৬ জন একই পরিবারেরর সদস্যদের দেহ ছিন্ন ভিন্ন করলো ঘাতকদের বুলেট। কাদের নীল নকশায় ঘটলো ইতিহাসের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা!

বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সাথে যাদের ঘনিষ্টতা ছিল, তারাই এ ঘটনার মূল নায়ক ছিল। নবাব সিরাজুদ্দৌলার মূল হত্যাকারী মীর জাফরও ছিল সিরাজুদ্দৌলার কাছের লোক। ইন্দিরা গান্ধীকেও হত্যা করেছিলেন তার বিশ্বস্ত দেহরক্ষীরা। শুধু এ তিনজন নয়, পৃথিবীর অনেক রাজনৈতিক হত্যাই হয়েছে কাছের লোক দ্বারা। যে কোন রাজনৈতিক দলের সাধারন কর্মীরাই হলো সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল, এরা কখনো তাদের নেতাদের হত্যা থেকে শুরু করে দলের বদনাম হোক, এরকম কাজ থেকে বিরত থাকার চেস্টা করেন। দল ক্ষমতায় থাকলেও এরা সুবিধা পায়না,বা তারা নেননা।

দল ক্ষমতায় থাকলে সরকারের কাছের লোকজন ও হাইব্রিড নেতারা সুবিধা পেয়ে থাকেন সবচেয়ে বেশি। দু-দিনের আওয়ামিলীগ বা বি,এন,পির হাইব্রিড নেতা কর্মীদের দাপটে কোনাঠাসা হয়ে পরে ত্যাগী নেতা কর্মীরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মূলতঃ দলই। যখন দল ক্ষমতায় না থাকে,তখন এই হাইব্রিডদের আর খুঁজে পাওয়া যায়না। চেটেপুটে খেয়ে ভূঁড়ি বের হয়ে তখন এই হাইব্রিডদের চোখ আর মাটি দেখেনা। তবে এই হাইব্রিডদের দলে সুযোগ দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সাঁড়ির অনেক নেতারাই দায়ী। এরাই মূলত: জায়গা করে দেন এ সব হাইব্রিডদের। ফলে টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে চাঁদাবাজির বড় এক অর্থ এ হাইব্রিডরা এসব নেতাদের দিয়ে নিজের জায়গা বেশ পাকাপোক্ত করেন। তবে দলের প্রধানরা এ বিষয়ে অনেকটাই জানেননা।

এভাবেই দলের মূল কর্মীদের সাথে দলের দূরত্ব বাড়তে থাকে। একসময় হাওয়া ভবন থেকে যেসব হাইব্রিডরা সুযোগ নিয়েছিলেন,তারা আজ বি,এন,পির খবরও নেয়না। ক্ষতি যা হওয়ার দলেরই হয়ে গেছে। আবার আজ আওয়ামিলীগ থেকে যে সকল হাইব্রিডরা সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন,দল ক্ষমতায় না থাকলে এরাও হারিয়ে যাবে। ক্ষতি যা হওয়ার আওয়ামিলীগেরই হয়ে যাবে। তাই যে কোন দলকেই নিরাপদে রাখতে হাইব্রিড হটানোর বিকল্প নেই।

এদেরকে যতই ঘরের লোক দল ভেবে থাকুক না কেন,এরা কিন্তু ঘরের শত্রু বিভীষন। দলীয় পদ না পাওয়ায় যারা বিক্ষোভ করে,দলের অপপ্রচার চালায়,এরা কখনো দলকে ভালবেসে রাজনীতি করেনা।এরা রাজনীতি করেন পদ লোভে। পদ লোভীরা কখনো আদর্শিক রাজনীতিবিদ হয়না।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর হাইব্রিড ও প্রথম সাঁড়ির নেতাদের ভেতর এক শুদ্ধি অভিযান জরুরী। না হয় এদের ভিতরই তৈরী হবে খন্দকার মোশতাক,মীর জাফর। যারা সময় পেলে মরন কামড় দিবে। মরন কামড় দেয়ার আগে বিঁষ দাঁত ভাঙ্গার এখনই সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *