সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে লাশ হলেন বাবা-মা সহ ৬ জন

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: ভুমিষ্ঠ শিশুর লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি ফিরছিলেন স্বজনরা। কিন্তু শিশুটির সাথে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মা-বা সহ ৬জনকেও ফিরতে হলো লাশ হয়ে। মর্মান্তিক এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বামরাইল ইউনিয়নের আটিপাড়া রাস্তার মাথায়। অ্যাম্বুলেন্সের পিছন থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কার পাশাপাশি অপর একটি যাত্রীবাহী বাসের আঘাতে ওই ৬জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। উজিরপুর থানার ওসি জিআউল আহসান দুর্ঘটনায় ৬জনের লাশ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম চালায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।


নিহতরা হচ্ছেন- মৃত নবজাতকের বাবা আরিফুর রহমান, মা শিউলি বেগম, দাদী কোহিনুর বেগম, চাচা কাইউম হোসেন ও অ্যাম্বুলেন্স চালক আলমগীর কবির। যাত্রীরা সকলে ঝালকাঠীর এবং চালক কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা। মৃত আরেকজনের পরিচয় এ পর্যন্ত জানা যায়নি।


ঘটনাস্থল আটিপাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অনার্স শিক্ষার্থী মো: জুনায়েদ বলেন, ঝালকাঠীর বাউকাঠীর বাসিন্দা ছিল ওই পরিবারটি। গত দুই দিন আগে রাজধানীর উত্তরার একটি ক্লিনিকে শিশু ভুমিষ্ঠ হয়। ওই শিশুটি মারা গেলে লাশ নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা থেকে ঝালকাঠীর উদ্দেশ্যে স্বজনরা যাচ্ছিলেন।


পথিমধ্যে বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বামরাইল ইউনিয়নের আটিপাড়া রাস্তার মাথায় একটি পরিবহন বাসকে অতিক্রম করতে চেয়েছিল এ্যাম্বুলেন্সটি (ঢাকা মেট্রো ছ-৭১১৭১৩)। এসবময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান (মেসার্স গাজী রাইস মিল) যাত্রীবাহী এ্যাম্বুলেন্সটির উপর আছড়ে পরে। একই সময়ে পিছনে থাকা মায়া ট্রাভেল্স নামে যাত্রীবাহী একটি পরিবহন বাস (খুলনা মেট্রো ব-১১০-১৭১) কাভার্ড ভ্যান কে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে এ্যাম্বুলেন্সটি ছিটকে সড়কের পাশে গাছের সাথে আটকে থাকে। তিনি ঘটনাস্থলে ৬জনের লাশ দেখতে পেয়েছেন বলে জানান শিক্ষার্থী জুনায়েদ।


এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুর্ঘটটনার পর ওই সড়কে যানজটের সৃস্টি হয়। উজিরপুর থানার ওসি জিয়াউল হাসান বলেন, এ্যাম্বুলেন্সে থাকা শিশুটির মা সহ ২জন নারী এবং ৪জন পুরুষ ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি আটক করা হয়েছে। এর চালক পালিয়েছে। নিহতদের লাশ শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *