বরিশালে এক রাতেই পেঁয়াজের ঝাঝ বৃদ্ধি

Spread the love

নাগরিক ডেস্ক: বরিশালে এক রাতের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। মঙ্গলবার সকালে পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি পাল্লা (১ পাল্লা= ৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। কোনো কোনো বিক্রেতা এক পাল্লা ৪৫০ টাকাও চাইছে।
সকল বাজারেই দেখা যায় একই পরিস্থিতি। ১ কেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকা চাইছেন বিক্রেতা। জানতে চাইলে সব বিক্রেতারই একই কথা জানালেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে না তাই দাম বেড়েছে।

তবে বাজার ঘুরে দেখা গেল, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও এক রাতের মধ্যে বেড়েছে। এক পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়।

এই দামেই অনেককে দেখা গেল পেঁয়াজ কিনতে। এক ক্রেতা জানালেন দাম আরও বাড়তে পারে তাই সকালেই পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন তিনি।

গতকাল পেঁয়াজ রপ্তানি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা করেছে ভারত। গতকাল সোমবার দিনভর দেশের তিনটি প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসেনি। পরে রাতে ভারত সরকারের রপ্তানি বন্ধের নির্দেশনা দেশটির আমদানিকারকদের হাতে আসে।

এদিকে গতকাল বিকেল থেকেই অস্থির হয়ে পড়ে বরিশালের পেঁয়াজের বাজার। মসলাজাতীয় পণ্যের বড় পাইকারি বাজার গতকাল বিকেলের পর থেকে পেঁয়াজ বিক্রি কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান সেখানকার ব্যবসায়ীরা। আর কারওয়ান বাজারের আড়তে বেলা ৩টার দিকে যে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৬ টাকা ছিল, সন্ধ্যা ৭টায় তা ওঠে ৭০ টাকায়। আর একই বাজারে ৪২ টাকা কেজির ভারতীয় পেঁয়াজ রাত ১০টায় হয়ে যায় ৫৬ টাকা।
বিজ্ঞাপন
সকালে সেই দাম আরও বেড়েছে। এক কেজি ৯০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। গত বছরও ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় অস্তির হয়ে ওঠে দেশের পেঁয়াজের বাজার। গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারত। এতে বাজারে হুহু করে বাড়তে শুরু করে দাম। দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে শতক হয়, দ্বিশতক হয়। বাংলাদেশ চাহিদা মেটাতে যতটুকু পেঁয়াজ আমদানি করে, তার ৯০ শতাংশের বেশি আসে ভারত থেকে। ভারত বন্ধ করে দিলেই কেবল ব্যবসায়ীরা অন্য দেশে পেঁয়াজ খুঁজতে শুরু করেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হয় পেঁয়াজ। পরে ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল গত মার্চ মাসে। এরপর থেকে আমদানি হচ্ছিল।

এদিকে গতকাল পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক কমানোর আবেদন নাকচ করল এনবিআর। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের ওপর ৫% আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল তা নাকচ করে এনবিআর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *