বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রত্যাহার, কার্যক্রম ব্যাহত

Spread the love


নাগরিক রিপোর্ট: পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক (উপ সচিব) মো: আব্দুল হালিমকে এক মাস আগে বরিশাল থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারনে তিনি এখনও বহাল আছেন। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে বরিশাল থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বলে দায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে। এদিকে পরিচালক আব্দুল হালিম স্বপদে বহাল থাকার জন্য মন্ত্রনালয়ে তদবির চালাচ্ছেন। তার বক্তব্যেও এর সত্যতা মিলেছে। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে বরিশালের পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রম।


জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (উপ সচিব) মো: আব্দুল হালিম রোববার বলেন, ‘প্রত্যাহার করলে তো তা আবার বাতিলও হতে পারে। এখন পর্যন্ত বাতিল হয়নি, ওই অবস্থায়ই আছে। তবে বাতিল হতে পারে।’


জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা: নাজমা নাহার সাক্ষরিত এক পত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (উপ সচিব) মো: আব্দুল হালিমকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ওই পত্রে তাকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হলেও দেশের কোন জেলা পরিষদ তা উল্লেখ করা হয়নি।


পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রত্যাহারের আদেশ পাওয়ার পর থেকেই তিনি দফায় দফায় ঢাকায় গিয়ে স্বপদে বহাল থাকতে মন্ত্রনালয়ে তদবির চালাচ্ছেন। সুত্র জানায়, বিভাগীয় দপ্তরে উপ পরিচালকের শুন্য পদে একজনকে দায়িত্ব প্রদান করা হলেও তিনি এখন পর্যন্ত যোগদান করেননি। একইভাবে ৩টি সহকারী পরিচালকের মধ্যে দুটি পদই শুন্য। সিনিয়র ক্যামিস্ট পদেও কেউ নেই। পরিদর্শকের ২টি পদও ফাঁকা। এমন অবস্থায় পরিচালক রাজধানীতে পড়ে থাকায় এখানকার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।


নদী খাল বাচাঁও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, বরিশাল নগরীর কয়েকটি পুকুর ভরাট রোধে তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে গেলেও পরিচালকের কাথ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ পাননি। তিনি ঘটনাস্থলে না গিয়ে ভরাটকারীদের নিয়ে অফিসে সভা করেছেন। সবশেষ ভাটিখানায় পুকুর ভরাট ঠেকাতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ঢাকায় আছেন বলে জানান। তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ১ মাস আগে প্রত্যাহার হলেও এটি গোপন রাখা হয়েছে। যেকারনে বরিশালে পরিবেশ রক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে দ্রæত পদক্ষেপ দাবী করেন।


পরিবেশ আইনবিদ সংস্থা বেলা’র বরিশালের সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, যিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকবেন তার উপর পরিবেশবিদরা নির্ভরশীল। বিভাগীয় শহর বরিশালের পরিবেশ রক্ষায় পরিচালককে সার্বক্ষনিক থাকা দরকার। অন্যথায় কার্যক্রমে বিঘœ ঘটতে পারে।


পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একটি সুত্রে জানা গেছে, পরিচালক মো: আব্দুল হালিম ভ্রাম্যমান আদালতে মামলার নামে নথি আটকে হয়রানী করে থাকেন। বরিশালের ৫ শতাধিক অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে তিনি সেখান থেকে সুবিধা আদায় করেন। মুলাদীতে ইটভাটায় অবৈধভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করায় সেখানকার এক জনপ্রতিনিধি পরিচালকের বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করেছেন।

পটুয়াখালীতেও মোবাইল কোর্ট করতে গিয়ে প্রশাসনের তোপের মুখে পরেন পরিচালক হালিম। গত বছর পরিবেশ সংক্রান্ত এক সভায় পরিবেশ দুষনে দায়ী নগরীর ওষুধ কোম্পানীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় মহাপরিচালকের সামনেই বরিশালের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এরপরও ওষুধ কোম্পানীর এক শ্রেনীর দালাল নিয়ে পরিচালক আব্দুল হালিম প্রায়সই বৈঠক করেন। এর প্রেক্ষিত্রে একটি গোয়েন্দা সংস্থা তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরে মন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে বলে সুত্রে জানা গেছে।


পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো: হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রনালয় থেকে প্রত্যাহার করায় বরিশালে নতুন পরিচালক দিতে হবে। তার জানা মতে এখনও নতুন কর্মকর্তা দেয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে সব কিছু বলতে পারবেন মহাপরিচালক। এ প্রসঙ্গে জানতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহম্মদকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *