নাগরিক রিপোর্ট: অর্থ আত্মসাতের দায়ে বরিশালে গ্রামীন ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপককে ৭ বছর কারাদন্ড ও ৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায়ে ডাকাত দলের দুই সদস্যকে প্রদান করা হয়েছে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড। বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. মহসিন উল হক মঙ্গলবার এ দুটি রায় প্রদান করেন। দুই মামলায় দন্ডিত তিন আসামী পলাতক থাকায় তাদের উপস্থিতিতে রায় দুটি ঘোষনা করেন বিচারক।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, গ্রামীন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক দোলোয়ার হোসেন ২০১০ সালের ১ আগষ্ট থেকে ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা শাখায় কর্মরত ছিলেন। এসময়ের মধ্যে তিনি ৪৭৬ জন গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করে ৪ কোটি ৯৪ লাখ ২২ হাজার ২৩৮ টাকা আত্মসাত করেন। এ অভিযোগে দূর্ণীতি দমন কমিশনের (দূদক) বরিশাল কার্যালয়ের উপ পরিচালক আর, কে মজুমদার ২০১২ সালের ৩০ জুলাই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
বরিশাল দূদকের আরেক উপ পরিচালক মো. মতিউর রহমান মামলার অভিযোগপত্র দেন। আদালতে ৮ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহনে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় দেলোয়ার হোসেনকে ৭ বছর কারাদন্ড ও আত্মসাত করা টাকার সমপরিমান অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। দেলোয়ার হোসেন পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করা হয়।
এছাড়া বিভাগীয় বিশেষ আদালতের বিচারকের দেয়া আরেকটি রায়ে ডাকাত দলের সদস্য আ: হাকিম জমাদ্দার ও আয়নাল ওরফে কবির খানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, ডাকাত দলের লুন্ঠন করা মালামাল উদ্ধার করতে ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বাকেরগঞ্জ পৌর শহরের ৭ ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির এক পর্যায়ে উল্লেখিত দুই ডাকাতকে গ্রেফতার এবং ১টি সার্টারগান, ১টি পাইপগান, ১টি এয়ারগান, ২৯ রাউন্ড গুলি ও ১টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক মো. ইউনুস আলী বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালতে ১০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহনে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ডাকাত হাকিম জমাদ্দার ও কবির খানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দেয় হয়েছে।
