বরিশালে স্বর্নালংকারসহ সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালে ৮ মাসে আগে দিন-দুপুরে সংঘটিত একটি জুয়েলারীতে চুরির রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। জুয়েলারীর সামনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বরিশাল, ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরির সঙ্গে জড়িত ৮জন এবং চোরাই স্বর্নালংকার কেনার অভিযোগে ২জন জুয়েলারী মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩ ভরি স্বর্ণলংকার। রবিবার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১৯ মার্চ দুপুর আড়াইটার দিকে বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম কাঠপট্টি এলাকায় আশরাফ এন্ড সন্স নামে একটি জুয়েলারীকে চুরি হয়। প্রতিষ্ঠান মালিক বাচ্চু মিয়া দোকান বন্ধ করে ভাত খেতে গেলে ব্যস্ততম রাস্তার পাশে লুঙ্গি এবং বিছানার চাদর মেলে ধরে শাটার ও কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ১২৬ ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রোববার দুপুরে পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, এ ঘটনায় ওইদিনই অজ্ঞাতদের আসামী করে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন জুয়েলারী মালিক। পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ওই জুয়েলারীর সামনে এবং ভেতরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষন করে অপরাধীদের চিহ্নিত করে। এদের মধ্যে একজন ছাড়া অন্যান্যরা বরিশালের বাইরের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের গ্রেফতারে তেমন অগ্রগতি হচ্ছিলো না।

এ অবস্থায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লষন এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. লিটন নামে একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২টি স্বর্নের আংটি উদ্ধার করা হয়।

পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বরিশাল, ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে এই চক্রের আরও ৭ সদস্য যথাক্রমে সুমন, অলি, জামাল, আলাউদ্দিন, হাসান, নয়ন ও জসিম ওরফে জনি এবং চোরাই স্বর্নালংকার কেনার অভিযোগে চট্টগ্রামের বউ বাজার এলাকার স্বর্না জুয়েলার্সের মালিক পবন রায় ও শিফা জুয়েলার্সের মালিক আলম হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় আরও ৯টি আংটি এবং একটি নেকলেস।
এপ্রসঙ্গে জুয়েলারী মালিক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, চুরি যাওয়া পুরো স্বর্নালংকার উদ্ধার সহ এই চক্রের অন্যান্য সদস্যেদের গ্রেফতার করা দরকার। তাহলে তিনি তার মালামাল ফিরে পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *