যাচাই-বাছাইয়ের নামে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানী

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: মহান মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলের অ্যাডজুডেন্ট ছিলেন বরিশালের সন্তান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক (মরহুম)। ২৫ মার্চ কালোরাতে ঢাকায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে শহীদ হন তৎকালীন ইপিআই সদস্য বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের খন্দকার লুৎফর রহমান। যিনি পরবর্তীতে মরোনত্তর বীর উত্তম খেতাব পান। তারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি-না তা প্রমান করার জন্য তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখিত দুজনের মতো বরিশালের আরও অনেক সুপরিচিত মুক্তিযোদ্ধার নাম উঠেছে যাচাই-বাছাই তালিকায়। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রাণালয়ের গাফেলতিতে প্রকৃতি মুক্তিযোদ্ধারা আরেক দফা অপদস্থ হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।

যাচাই-বাছাই তালিকায় নাম উঠায় শনিবার বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন ‘৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের বরিশালের সভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু ও আরেক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তী। নগরীতে বাংলাদেশর সমাজতন্ত্রিক দল (বাসদ) কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়।

এই দুই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রাণালয় বারবার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান ও অবহেলা প্রদর্শনের নজীর সৃষ্টি করছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছিল। একই মন্ত্রণালয় এবার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে অপদস্থ করছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বছরে ফাইল হাতে অফিস আদালতে ঘুরে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের আত্মত্যাগ প্রমান করতে হবে’।

এই দুই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রাণালয় থেকে বলা হয়েছিল যেসব মুক্তিযোদ্ধার নাম লাল বই ও মুক্তিবার্তায় রয়েছে তাদের যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হবে না। লাল বই ও মুক্তিবার্তায় নাম থাকার পরও তাদের দুজনের নাম যাচাই-বাছাই তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করেছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, বরিশালে সম্মুখযুদ্ধে আরেক শহীদ আশীষ বেপারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম (বীর প্রতিক), মিন্ট বসু (প্রয়াত), তরুন দেবসহ আরও অনেক সুপরিচিত মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে যাচাই-বাছাই তালিকায়। তাদের প্রত্যেকের নাম লাল বই ও মুক্তিবার্তায় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা তপংকর চক্রবর্তীর মেয়ে বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, বাবা তপন চক্রবর্তী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করায় পাক বাহিনী তার দাদা সুধীর কুমার চক্রবর্তীকে হত্যা করেছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তপন চক্রবর্তীর নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করায় তখন তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল। ডা. মনীষার অভিযোগ, ওই ঘটনার জেরে নতুনভাবে অপদস্থ করতে তপন চক্রবর্তীর নাম এবার দেয়া হয়েছে যাচাই-বাছাই তালিকায়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার এনায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রমানপত্রের কাগজ যথাযথভাবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করেছে। সেখানে ফাইলপত্রের বিশাল স্তুুপের কারনে ভুল হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদও বিব্রত। এনায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, লালবই ও মুক্তিবার্তায় নাম থাকা যেসব মুক্তিযোদ্ধার নাম যাচাই-বাছাই তালিকায় উঠেছে, তাদের প্রমানপত্র আগামী ২০ জানুয়ারীর মাধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবারও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *