নাগরিক রিপোর্ট:
শিশু গৃহকর্মী নিপা বাড়ৈকে অমানসিক নির্যাতনে দায়ী জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) রেজিষ্ট্রার ডা. রবিন চন্দ্র হাওলাদার ও তার স্ত্রীর রাখীর বিচারের দাবীতে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখা নেতৃবৃন্দ। রবিবার বিকেলে মহিলা পরিষদের স্মারকলিপি বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার গ্রহন করেন।
এদিকে নির্যাতিতা শিশু গৃহকর্মী নিপা উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে মহিলা পরিষদ উল্লেখ করেছে- উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামে ডা. রবিন চন্দ্র হালদারের বাড়ি। গত ৬ মাস পূর্বে শিশু নিপা বাড়ৈকে ডা. রবিনের ঢাকার বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে যায়। কাজের শুরু থেকেই ভুলক্রটি হলেই রবিনের স্ত্রী রাখী তার উপর নিযার্তন চালাতো। গত ২৩ ফেব্রয়ারী চিকিৎসক রবিনের কম্পাউন্ডার বাসুদেবের মাধ্যমে গৃহকর্মী নিপাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে উজিরপুর থানা পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্মারকলিপিতে ওই ঘটনায় বরিশাল মহিলা পরিষদ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার ও দ্রত আদালতে চার্জসিট প্রদান করে শাস্তির দাবী জানান তারা। একই সাথে শিশুটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য দাবী জানানো হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল মহিলা পরিষদের সভাপতি রাবেয়া খাতুন, সহ-সভাপতি ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) জেলা সভাপতি প্রফেসর শাহ শাজেদা, সাধারণ সম্পাদক পুষ্প চক্রবর্তী প্রমূখ।
এদিকে শিশুটিকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন উজিরপুরের সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু জাফর মোহম্মদ রহমাতুল্লাহ।
প্রসঙ্গত, নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী নিপাকে বাড়িতে পাঠানোর পর উজিরপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে নিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে চিকিৎসক রবিন এর সহযোগীরা। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় শিশুটির চাচা তপন বাড়ৈ শনিবার উজিরপুর থানায় চিকিৎসক দম্পতি রবিন ও রাখীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরও করেছেন।
