কীর্তনখোলার পানিতে লবনাক্ততা, বিরুপ প্রভাবের আশংকা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর পানি যুগ যুগ ধরে সুসাধু হিসেবে খ্যাত। এই নদী ঘিরে হাজার হাজার মানুষের পানির চাহিদাসহ জীবিকা নির্বাহ হয়। কিন্তু হঠাৎ করে সেই কীর্তনখোলার পানি লবনাক্ত বলে দাবী করেছেন নদী পাড়ের মানুষ। যে পানি খাবারে ব্যবহার হতো তা এখন করা যাচ্ছে না। গত এক সপ্তাহ ধরে এমন ঘটনায় কীর্তনখোলার পানি নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর সোমবার দুপুরে কীর্তনখোলার পানির নমুনাও সংগ্রহ করে এ সত্যতা স্বীকার করেছে।

বিশেষজ্ঞরা এ ঘটনায় বিরুপ প্রভাব পড়ার আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, উজানে সাদু পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সাগরের লবনাক্ত পানি বরিশাল অঞ্চলের নদীতে ঢুকে যেতে পারে। এর ফলে নদীর মাছ, জলজ উদ্ভিদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।


খোজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক জোয়ারে কীর্তনখোলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আকস্মিক এ পানি লবনাক্ত হওয়ায় জনমনে কৌতুহল দেখা দিছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে লবন হওয়ায় নদীর তীরের মানুষের মধ্যে নানা গুঞ্জন বিরাজ করছে। কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন নগরীর ডিসি ঘাট, ত্রিশ গোডাউন এলাকার স্থানীয়রা পানির স্বাদ গ্রহন করে সেই পানিতে লবনাক্ততা পেয়েছেন।


বরিশাল স্টেডিয়াম সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু কলোনীর বাসিন্দা চা দোকানী মো: হানিফ পালোয়ান। তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে নদীতে গোসল করতে যাওয়া মানুষ পানি লবন অনুভব করছেন। লবন হওয়ায় তিনি ক’দিন ধরে এ পানি দিয়ে চা করেন না। হানিফ পালোয়ানের দাবী প্রতি বছরই গরমের সময় পানি কিছুটা লবন হয়। দক্ষিনা বাতাস হলে লবন পানি চলে আসে। এবার একটু বেশি মনে হচ্ছে। বর্ষা হলে ঠিক হয়ে যাবে বলে তার ধারনা। কীর্তনখোলা সংলগ্ন কেডিসির বাসিন্দা লঞ্চের টিকেট ক্যানভাসার হেলাল উদ্দিন বলেন, নদীর পানি হঠাৎ লবন হয়ে গেছে। তার ব্যবহার করতে পারছেন না। কেন হলো বোঝা যাচ্ছে না।


বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া বলেন, তারা এমন খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে দপদপিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট দুটি পয়েন্টে কীর্তনখোলা নদীর পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তিনি পানি মুখে দিয়ে লবন অনুভব করেছেন।
যদিও গত ৭ মার্চ একই নদীর পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে গবেষনা করেছেন। ওই পরীক্ষার তথ্যমতে, ফেব্রæয়ারী মাস পর্যন্ত পানির তরিৎ পরিবাহিতা ছিল ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ ইসি। কিন্তু মার্চে তা ১৩০০-১৩৬৩ ইসি উঠে গেছে। সাধারনত ১২০০ ইসি পর্যন্ত তরিৎ পরিবাহিতা স্বাভাবিক।

লবনের পরিমান বাড়লে ইসি বাড়ে। সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া মনে করেন, লবনাক্ততা বাড়ার কারন এই মৌসুমে কম বৃস্টিপাত হয়েছে। তাছাড়া উজানে সাধু পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সাগরের লবনাক্ত পানি উপরের দিকে উঠে আসছে। যা কীর্তনখোলা নদী পর্যন্ত চলে আসতে পারে। তবে বৃস্টি হলে এই লবনাক্ততা কমে যাবে বলে তিনি জানান।


এ প্রসঙ্গে কীর্তনখোলা তীরের নগরীর ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মজিবর রহমান বলেন, তিনি এ কথাটি কারো কাছ থেকে শোনেননি। কীর্তনখোলা তীরের ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জাকির হোসেন বলেন, ফেসবুকে তিনি এমন খবর জেনেছেন। তবে কোন বাসিন্দা বলেননি। এমনটা আর শোনেননি।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরিশাল দপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, তাদের বিষযটি জানা নেই। তবে পানির নুমান পরীক্ষা করে দেখা হবে। এব্যপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল হাসান বলেন, সাধারন ভাবে কীর্তনখোলা নদীর পানি মিষ্টি ছিল। তবে নদীর পানি লবন হওয়ার কারন হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় উপকূলীয় এলাকা বরগুনা পটুয়াখালীর লবন পানি বরিশাল অঞ্চলেও ঢুকে যেতে পারে। যেহেতু কীর্তনখোলায় চলে এসেছে সেহেতু এটি অশনি সংকেত। পানির মাছ, জলজ উদ্ভিদ মরে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *