নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর এলাকায় দুই সদস্য (মেম্বার) প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ১৫-১৬ টি বোমার বিস্ফোরন ঘটে। বোমা হামলায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার সমর্থক মৌজে আলী মৃধা (৬৫) নিহত হন। এছাড়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও ৫-৬ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে ৬ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষন করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুন) বেলা ১২ টার দিকে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মৌজে আলী মৃধা কমলাপুর গ্রামের মৃত কাদের মৃধার ছেলে।
আহতদের মধ্যে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী মন্টু হাওলাদার, মো. ইদ্রিস, মো. ইমরান হাওলাদারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রব হাওলাদার জানান, মোরগ প্রতীকের প্রার্থী ফিরোজ মৃধার কর্মী নয়ন মৃধা কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করে জাল ভোট দেয়ার চেস্টা করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে টিউবওয়েল মার্কার প্রার্থী মন্টু হাওলাদারের লোকজন তাকে ধাওয়া করে। নয়ন মৃধা কেন্দ্রে বাইরে এসে বিষয়টি ফিরোজ মৃধাকে জানায়। এসময় মন্টু হাওলাদারের লোকজন এসে পড়লে দুই প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। এসময় ১৫-১৬টি বোমার বিস্ফোরন ঘটে। ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সংঘর্ষ থামাতে এগিয়ে গেলে তাদের লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে ৬ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষন করে। এদিকে উভয় পক্ষের ছোড়া বোমা বিস্ফোরিত হয়ে চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ইউপি সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার সমর্থক মৌজে আলী মৃধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য লাঠি সোটার আঘাত পেয়েছেন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষের ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রব হাওলাদার বলেন, সংঘর্ষের কারনে প্রায় ১ ঘন্টা ভোট গ্রহন স্থগিত ছিল। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
