নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল জেলায় সোমবার সম্পন্ন হওয়া ৫০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফল নিয়ে সন্তুুষ্ট নন অংশগ্রহনকারী দল জাতীয় পার্টি (জাপা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ওয়ার্কার্স পাটি। আওয়ামীলীগের কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের চেয়ারম্যান পদের ব্যালট পেপার না দেয়ায় ওই দলগুলো কাংক্ষিত ফল পায়নি বলে দাবী তাদের।
বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহন থেকে বিরত থাকায় বরিশাল জেলার বেশীরভাগ ইউনিয়নে জাপা ও ইসলামী আন্দোলন চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়েছিল। যদিও ৫০ ইউপির মধ্যে ১৪টিতে আগেই আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বদ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তখন জাপা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অভিযোগ করেছিল তাদের প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়।
সোমবার ৫০ ইউপির মধ্যে ৩৬টিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারমধ্যে ৩ ইউনিয়নে জাপা ও ১টিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বচিত হয়েছেন। এ দুটি দলের জেলার শীর্ষ নেতাদের দাবী, নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হলে আরও কমপক্ষে ১০টি করে ইউনিয়নে বিজয়ী হতো তাদের প্রার্থী।
চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চমক দেখিয়েছে বরিশাল নগরীঘেষা জাগুয়া ইউনিয়নে জয়ী হয়ে। এখানে নৌকার প্রার্র্থী ৬৯৮ ভোট ব্যবধানে পরাজিত হয় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর কাছে। চরমোনাই পীরের নিজ জেলায় এর আগে শুধুমাত্র চরমোনাই ইউনিয়ন ছাড়া আর কোথাও নির্বাচনী সাফল্য পায়নি তার দল।
জাগুয়ায় নৌকার প্রার্থীর পরাজয় প্রসঙ্গে বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী না থাকায় আওয়ামীলীগ বিরোধী শক্তিগুলো একাট্রা হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারী উপাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, তার দল ৫০ ইউপির সবকটিতে প্রার্থী দিয়েছিল। আওয়ামীলীগের ‘সন্ত্রাসীরা’ ভয়ভীতি ও বিভিন্নভাবে বাঁধা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করায় ১২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর একইভাবে আরও ৫জনকে প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়।
উপাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৩৩ ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত ছিল। তিনি বলেন, হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে ৬ কেন্দ্রে ভোট গণনার পর হাতপাখার প্রার্থী এগিয়ে থাকলে অবশিষ্ঠ ৩ কেন্দ্রের ব্যালট উপজেলা পরিষদে নিয়ে গণনা করে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। বাকেরগঞ্জের চরাদি, ভরপাশা ও রঙ্গশ্রী, হিজলার মেমানিয়া, মুলাদীর নাজিরপুর ও চরকালেখান ইউনিয়নে কারচুপি করে নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে হাতপাখার প্রার্থীকে অল্প ভোট ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি দেখানো হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি ও চরমোনাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুফতি এসাহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, কয়েকটি ইউনিয়নে ভোট সুষ্ঠু হলেও বেশীরভাগ ইউনিয়নে ভোটারদের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট দেয়া হয়নি।
সোমবারের নির্বাচনে জাপার চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হয়েছে জেলার ৩ ইউনিয়ন যথাক্রমে বাবুগঞ্জের মাধবপাশা, মুলাদীর চরকালেখান ও বাকেরগঞ্জের গারুরিয়া। এ ফল নিয়ে সন্তুুষ্ট নন জাপা নেতারা।
জেলা জাপার সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, প্রতিযোগীতামুলক কোন নির্বাচন হয়নি। আওয়ামীলীগ নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে পাতানো ভোট করেছে। যেসব ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে সেখানে নৌকা হেরেছে। তিনি বলেন, মুলাদীর শফিপুর ইউনিয়নে ভোট শুরুর পর পরই এলাকা ছাড়তে হয়েছে লাঙ্গলের প্রার্থী ফখরুল আহসান শাহজাদা মুন্সীকে। তার দাবী, সবগুলো ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোট হলে জাপা আরও কয়েকটি ইউনিয়নে জয়ী হতো।
বাবুগঞ্জ উপজেলা ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি’র জন্মভূমি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ দলের প্রার্থীরা বাবুগঞ্জ উপজেলায় শক্তিশালী প্রার্থী। বাবুগঞ্জে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া ৪ ইউপির মধ্যে রাশেদ খান মেনন এমপির নিজ ইউনিয়ন দেহেরগতিসহ দুটিতে ওয়াকার্স পার্টি অংশগ্রহন করে হেরেছে। জেলা ওয়ার্কার্স সভাপতি নজরুল হক নীলু এ প্রসঙ্গে বলেন, নৌকার প্রার্থীরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে কেদারপুর ও দেহেরগতি ইউনিয়নের সবগুলো কেন্দ্র দখল করেছে এবং ওয়াকার্স পার্টির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এ নির্বাচন দিয়ে জনগণের মতের প্রতিফলন ঘটেনি।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পদাক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, স্মরনকালের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে গত সোমবার। যারা ভোট নিয়ে নানা অভিযোগ তুলছে তারা জনগণের সমর্থন না পেয়ে এখন প্রলাপ বকছেন। তাদের অভিযোগ অসত্য, মনগড়া ও কাল্পনিক। ##
২০২১-০৬-২৩
