পুলক চ্যাটার্জি, অতিথি প্রতিবেদক : বিশেষ অর্থনৈতিক গুরুত্বের সঙ্গে রূপালী সম্পদ ইলিশের রয়েছে বিপুল ধর্মীয়, সামাজিক ও লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য। ইলিশ উৎসবের মাছ। বাঙ্গালীর রকমারী উৎসবে ইলিশ নিয়ে গল্পের শেষ নেই। প্রখ্যাত লেখক বুদ্ধদেব বসু তার লেখনীতে ইলিশকে বলেছেন, ‘রজতবর্ণ মনোহরদর্শন মৎস্যকুলরাজ মহান ইলিশ’।
ইলিশ শুধু মাছ নয়, ইলিশ আমাদের সংস্কৃতিরও অঙ্গ। জামাইষষ্ঠী, পূজা-পার্বন এবং নববর্ষে ঘটা করে ইলিশের আয়োজন থাকে। আবার চাঁদপুর জেলায় গত ১১ বছর ধরে এবং বরগুনা জেলায় ২০১৯ সাল থেকে পালিত হচ্ছে ইলিশ উৎসব। মা ইলিশ সংরক্ষন করতে এবং জাটকা রক্ষার কার্যক্রম পালিত হয় সরকারি উদ্যেগে।
ইলিশ আহরন করে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ জেলে পরিবার জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। রপ্তানির মাধ্যমে আসে প্রচুর বৈদিশিক মুদ্রা। আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় মাছ ইলিশ যেখানে অধিক উচ্চতার গুরুত্ব বহন করছে সেখানে ভরা মৌসুমেও দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে ইলিশের আকাল চলছে। তবে গভীর সমুদ্রে ছিটে-ফোটা ইলিশ পাওয়ার খবর মিলছে গণমাধ্যমের কল্যানে। কিন্ত মৎস্যকূলরাজ ইলিশ নিয়ে উদ্বেগ-হতাশা ও দুচিন্তার খবর উঠে এসেছে গবেষনায়।
গবেষকরা বলেছেন, ইলিশের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশ উৎপাদন ক্রমশ নিম্নমূখী হচ্ছে। মৌসুমেও ধরা পড়েনা কাংক্ষিত পরিমান ইলিশ। প্রজনন মৌসুম পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ইলিশ রক্ষায় সরকারি বিধি নিষেধ যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছেনা। ইলিশের গড় সাইজ বা ওজনও কমে যাচ্ছে। জাটকা সাইজের ইলিশেও পাওয়া যাচ্ছে ডিম।
গবেষকদের মতে, ইলিশ আহরন পরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে না পারলে দেশে ইলিশ সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই ইলিশসহ মৎস্য খাতে জরুরীভাবে টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবকে বিবেচনায় নিয়ে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ইলিশসহ প্রাকৃতিক উৎসের মাছ দিন দিন কমতেই থাকবে।
বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ২০১৯ সাল থেকে পরিচালিত হচ্ছে ‘স্টক এ্যাসেসমেন্ট অব কমার্শিয়ালি ইমপরটেন্ট ফিসেস ইন দ্যা বে-অব বেঙ্গল’ শীর্ষক গবেষনা। এ গবেষনা দলের প্রধান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়ামিন হোসেন। তার সঙ্গে ২২ জন রিসার্চ ফেলো গবেষণা করছেন। মাঠ পর্যায় থেকে ৮ জন ফেলো দৈনিক ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের তথ্য নিচ্ছেন।
অধ্যাপক ড. ইয়ামিন হোসেন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশের উৎপাদন উর্ধ্বমুখী ছিল। তবে চলতি বছর এবং আগামী বছর উৎপাদন কম হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। কারন ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো নষ্ট করা হচ্ছে। প্রজননের ‘পিকটাইম’ নির্ধারনে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন।
ড. ইয়ামিন হোসেনের এই গবেষনা দলের অন্যতম সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বিপ্লব কুমার সরকার বরগুনার পাথরঘাটায় অবস্থান করে দৈনিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। বরগুনার পাথরঘাটার সরকারি মৎস্য অবতরন কেন্দ্রটি দেশের অন্যতম ইলিশ ও সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর।
দক্ষিণে উৎপাদন নিম্নমুখী
পাথরঘাটা সরকারি মৎস্য অবতরন কেন্দ্র থেকে পাওয়া গত চার বছরের পরিসংখ্যান জানিয়ে গবেষক বিপ্লব কুমার সরকার বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশের উৎপাদন কমছে। তিনি জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে ইলিশ এসেছে ৪ হাজার ৯০০ টন। পরের বছর ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এসেছে ৭০০ টন কম, অর্থ্যাৎ ৪ হাজার ২০০ টন। তার পরের বছর ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ইলিশ আমদানী কম হয়েছে দেড় হাজার টন। ওই বছরে ইলিশ এসেছে ২ হাজার ৭০০ টন। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে পাথরঘাটা অবতরন কেন্দ্রে ইলিশ আমদানী হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টন। যা বিগত বছরের চেয়ে ১২০০ টন কম। বিপ্লব সরকারের দাবী, পাথরঘাটা অবতরন কেন্দ্রে ইলিশ আমদানীর এই নিম্নমূখী পরিসংখ্যানই বলে দেয় দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশ উৎপাদন বাড়ছেনা।
দক্ষিণে ইলিশ উৎপাদন যে নিম্নমুখী তার কিছুটা সত্যতা মেলে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যেও। বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই মাসে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ইলিশ আহরিত হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫ মেট্রিক টন। কিন্ত চলতি বছরের (২০২১) জুলাই মাসে ছয় জেলায় ইলিশ উৎপাদনের পরিমান মাত্র ১১ হাজার ২২২ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বরিশাল বিভাগে এক মাসেই ইলিশ উৎপাদন কম হয়েছে ৬ হাজার ৮৪৩ মেট্রিক টন।
তবে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আনিছুর রহমান তালুকদার এবং মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশের উৎপাদন নিম্নমুখী এমন তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষন করে বলেছেন, নদীতে ইলিশ কম, কিন্ত সামগ্রীকভাবে উৎপাদন কমেনি। দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশের ল্যান্ডিং কম হচ্ছে। সাগরের মাছও সরাসরি খুচরা বাজারে চলে যাচ্ছে। তাই একটি অবতরন কেন্দ্রের ল্যান্ডিং মাছের তথ্য দিয়ে জোরালোভাবে বলা যায়না যে উৎপাদন নিম্নমুখী।
গবেষনা দলের প্রধান অধ্যাপক ড. ইয়ামিন হোসেন আশংকা প্রকাশ করেছেন, দক্ষিণাঞ্চলে চলতি বছর ইলিশ উৎপাদন আরো কমবে। কারন গত বছর ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন ঘটেছে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। ফলে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা তেমন কার্যকর হয়নি। তাই প্রজননের ‘পিকটাইম’ নির্ধারনে আরও সতর্ক হতে হবে। উপযুক্ত সময়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে উৎপাদন উর্ধ্বমূখী হবে।
কমছে গড় সাইজ বা ওজন
রিসার্চ ফেলো বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, গবেষনায় দেখা গেছে ইলিশের গড় সাইজ বা ওজন কমে যাচ্ছে। ছোট ইলিশেও ডিম পাওয়া যাচ্ছে। জেলেরা ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে জাটকা ধরছে। এ অবস্থায় জেলেদের বড় ইলিশ ধরার মানসিকতা তৈরী করতে হবে। ছোট ইলিশ ধরা নিরুৎসাহিত করতে হবে। ইলিশ যখন ডিম ছেড়ে আবার সাগরে যায় তখন ধরতে হবে। এজন্য জেলেদের জালের ফাঁস নির্ধারন করে দেয়া একান্ত প্রয়োজন। তাহলে ছোট ইলিশ ধরা পড়বে না। বিপ্লব কুমার সরকারের মতে, মাঠ পর্যায়ে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে দেখা গেছে ইলিশের গড় সাইজ এখন ৫৫০ গ্রাম থেকে ৬৫০ গ্রাম। ব্যাপকভাবে ছোট ইলিশ ধরার কারনেই গড় ওজন কমছে। গত বছর শতকরা ৮০ ভাগ ছোট ইলিশে ডিম পাওয়া গেছে। ছোট ইলিশের ডিমে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখের বেশী বাচ্চা থাকেনা। এটা ইলিশের জন্য সুখকর খবর নয়। অথচ বড় ইলিশে ডিম থাকে ১৬ থেকে ১৮ লাখ। গড় ওজন কমে যাওয়াও ইলিশ সংকটের একটি বড় কারন।
নিরাপদ করতে হবে মোহনা
গবেষক বিপ্লব কুমার সরকারের মতে, পানির তলদেশে যে স্থান প্রচুর পরিমানে উর্বরতা সেখানে প্রাণ-প্রকৃতির আধার হয়। মাছের ক্ষেত্রেও তেমন। প্রত্যেকটি মোহনায় খাবার বেশী। পানি থাকে মিশ্রিত। এরকম পরিবেশ ইলিশসহ সব ধরনের মাছের অত্যন্ত প্রিয়। কিন্ত মোহনা এখন আর মাছের জন্য নিরাপদ নয়। মোহনায় জালের ব্যবহার বেশী হচ্ছে। এতে সব মাছের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যহত হয়। ১০ হাত পর পর জেলেরা মোহনায় জাল পাতেন। লোভী জেলেরা মোহনায় প্রচুর নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করেন। এ কারনে মাছ মোহনায় আসতে ভয় পায়। অসচেতন জেলেদের কারনে মাছের প্রধান চারন ক্ষেত্র দিন দিন বিপদজনক হয়ে উঠছে। উপকূলের জেলেরা ভাবেন তারা একদিন মাছ ধরবেন আর তা দিয়ে ১০ দিন সংসার চালাবেন। এমন মানসিকতার কারনে প্রাকৃতিক উৎসের মাছ কমছে। অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। শুধু ইলিশ নয় কোন মাছই গভীর সমুদ্রে ডিম পারেনা। মোহনায় এসে ডিম পাড়ে। কারন গভীর সমুদ্রে লবনাক্ততার পরিমান ৩০ পিপিটি (১০০ গ্রাম পানিতে ৩০ গ্রাম লবন)। এতে ডিম বাঁচেনা। তাই মাছের জন্য মোহনা কিভাবে নিরাপদ করা যায় তা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে।
কখন সঠিক প্রজনন মৌসুম?
মৎস্য বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ইয়ামিন হোসেন মনে করেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুম নির্ধারনে নতুন করে চিন্তাভাবনার সময় এসেছে। ঢেলে সাজানো প্রয়োজন ইলিশ ধরার সময়, পদ্ধতিসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা।
অধ্যাপক ইয়ামিন হোসেন বলেন, ইলিশ সারাবছরই ডিম পারে। তবে বছরের দুই মৌসুমে ইলিশের ডিম পাড়ার উৎসব হয়। ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসে এবং অক্টোবরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পরবর্তী ২২ দিন। বছরে ডিম ছাড়ার দুটি ভরা মৌসুম হলেও নিষেধাজ্ঞা থাকে এক মৌসুমে। নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সে সময়টিও তিথি বা জলবায়ু পরিবর্তনের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। ফলে দেখা যায় নিষেধাজ্ঞার আগেও ইলিশ ডিম ছাড়তে এসে ধরা পড়ছে। উদাহরন টেনে ড. ইয়ামিন হোসেন বলেন, গত বছর ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন ঘটেছে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। এতে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা তেমন কার্যকর হয়নি।
চলতি মৌসুমে যদি বলা হয় অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পরবর্তী ২২ দিন ভরা প্রজনন মৌসুম সেটা এ বছরের জন্য সঠিক নাও হতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. ইয়ামিন হোসেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে যদি অক্টোবরের আগেই বৃষ্টি হয়- সাগর উত্তাল হয়, ঝড়ঝঞ্চা আসে, তাহলে ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে উঠে আসবে। কারন ইলিশ অপেক্ষায় থাকে ডিম ছাড়ার উপযুক্ত পরিবেশের জন্য। অধ্যাপক ড. ইয়ামিন হোসেনের মতে, প্রজনন মৌসুম নির্ধারনে আবহাওয়াবিদদের সংশ্লিষ্ট করা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। যদি আগাম বা পরে ঝড়-ঝঞ্চা ও বৃষ্টিপাত হয় তা নিশ্চিত হয়ে প্রজনন মৌসুম নির্ধারন করে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। উজানে নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়াতে হবে। ভাঁটিতে ২২ দিন হলেও চলবে।
এখন চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। এই ভরা মৌসুমেও কেন দক্ষিণ উপকূলের নদ-নদীতে ইলিশ সংকট এমন প্রশ্ন করা হলে এ সংকটের পেছনে রয়েছে প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট কারন বলে জানিয়েছেন গবেষক বিপ্লব কুমার সরকার।
প্রাকৃতিক কারন
ইলিশ স্থান পরিবর্তনকারী মাছ। গভীর সমুদ্রে খাবার খেলেও ইলিশ ডিম ছাড়ে নদীতে। তাই প্রতিবছর ডিম ছাড়ার জন্য ইলিশকে নদীতেই আসতে হবে। ইলিশ তখনই নদীতে আসবে যখন সে বুঝবে নদী এখন ডিম পাড়ার জন্য উপযুক্ত। নদীর পানিতে যখন ঘোলাত্ব, ¯্রােত ও খাবারের পরিমান বাড়ে তখন ইলিশ বুঝতে পারে তার উজানে যাওয়ার সময় হয়েছে। প্রচুর বৃস্টি হলে নদীতে এরকম পরিবেশ হয়। এবছর বৃষ্টি আছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি হচ্ছেনা। যার ফলে স্থলভাগের পানির ঢল নদীতে গিয়ে ¯্রােতের সৃস্টি করছে না। আর ইলিশও ঝাঁক বেধে নদীতে ফিরছে না বলে জানিয়েছেন গবেষক বিপ্লব সরকার।
মানবসৃষ্ট কারন
বিপ্লব সরকারে মতে, সাগর এবং নদীর মোহনায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বেড়েছে। এত বেশী জাল ব্যবহার হচ্ছে যে ইলিশসহ সব ধরনের মাছের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক চলাচল বাঁধাগ্রস্থ হওয়ায় ইলিশ তার বিপদ বুঝে গেছে। বাঁধা জাল, খুটি জাল, বেহুন্দি জাল, কারেন্ট জাল সহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মোহনায় এত বেশী মাছ ধরা হচ্ছে যে ৫০০ টাকার চিংড়ি ধরতে জেলেরা হাজার হাজার টাকার রেনু পোন ধংস করছে। এক ঝুড়ি বৈরাগী মাছ (সামুদ্রিক প্রজাতি) ধরতে শত শত কেজি ইলিশের বাচ্চা নষ্ট করছে জেলেরা। পাথরঘাটা ও কুয়াকাটা উপকূলে এমন শতাধিক ষ্টেশন বা স্পট আছে যেখানে জেলেরা নির্বিচারে জাল ফেলে ইলিশের গতি বদলে দিচ্ছে। এতে মোহনা দিয়ে নদীতে ইলিশ এখন আর আগের মতো ঢুকছেনা।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট চাঁদপুর নদীকেন্দ্রের প্রধান ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বেসরকারি গবেষনার তথ্য প্রসঙ্গে বলেন, অভ্যন্তরীন নদ-নদীতে ইলিশ উৎপাদন কম হলেও সামগ্রিকভাবে কম হচ্ছে তা বলার সময় আসেনি। তবে গবেষনায় যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা একেবারে অমূলক নয়।
ড. আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশের জন্য মোহনা এখন যে আর নিরাপদ নয়, তা সত্য। নাব্য সংকট, নিষিদ্ধ জালের অধিক ব্যবহার এবং অতি আহরন প্রবনতা ইলিশের ক্ষতি করছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরাও চিন্তিত। ইলিশ নিয়ে ব্যাপক পরিধিতিতে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে। ইলিশের গড় সাইজ বা ওজন কমে যাওয়ার তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষন করে ড. আনিসুর রহমান বলেন, বড় ইলিশ আছে, ধরাও পড়ছে প্রচুর। তিনি মনে করেন, প্রজননের জন্য দুটি সময়ে নিষেধাজ্ঞা দিলে ভাল হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রজনের ‘পিকসিজনের’ হেরফের হচ্ছে। তবে এখনই পরিবর্তন করতে হবে এমন পরিস্থিতি আসেনি। নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়টি একটা কৌশল। জেলেদের ইলিশ ধরারও সুযোগ দিতে হবে। ##
২০২১-০৮-২৬
