তুলকালামের ১০ দিন পর প্রতিমন্ত্রী বরিশালে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বরিশাল- ৫ (সদর-মহানগর) আসনের সাংসদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর জাহিদ ফারুক শামীমের পক্ষে লাগানো ব্যানার-ফেষ্টুন অপসারকে কেন্দ্র করে ১৮ আগষ্ট রাতে ঘটে যায় তুলকালাম কান্ড। ওই ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে যান জেলা, বিভাগীয় ও পুলিশ প্রশাসন।
তুলকালামকান্ডের ১০দিন পর শনিবার রাতে নগরীতে পৌছে প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি বরিশালে পৌছলে আভ্যর্থনা জানাতে আসা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন- ‘আমি অসুস্থ ছিলাম। চিকিৎসদের বারন থাকায় এতদিন বরিশালে আসিনি, সে কারনে আপনাদের সঙ্গে দেখা হয়নি’।
শনিবার রাতে ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশালে পৌছলে কর্মী সমর্থকরা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে দাড়িয়ে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। তিনি রোববার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন হায়াদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুস্থ্যদের মধ্যে সেলাই মেশিণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। গত ১৮ আগষ্ট রাত ও তার পরবর্তী ঘটনা নিয়ে তিনি এ পর্যন্ত কোন মন্তব্য করেননি।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রীর অনুসারীরা। সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী নেতাকর্মীরা সিটি করপোরেশনের কর্মী পরিচয়ে গত ১৮ আগষ্ট রাতে সেগুলো অপসারন করতে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (্ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমান বাঁধা দেন। এতে ক্ষুদ্ধ মেয়র অনুসারীরা ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলা এবং পুলিশের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই ঘটনায় মেয়রকে প্রধান আসামী করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন ইউএনও এবং পুলিশ। ওই দুই মামলায় এক সিটি কাউন্সিলরসহ মহানগর আওয়ামীলীগের ১২ জন নেতাকর্মী এখনও কারাগারে রয়েছেন।
মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর একক প্রভাব-প্রতিপত্তির নগরীতে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের ব্যানার ফেষ্টুন অপসারনের চেষ্টায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের গ্রুপিংয়ের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। ঘটনার রাতে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
১০দিন পর শনিবার রাত ৯টায় সড়কপথে তিনি তিনদিনের সফরে বরিশালে পৌছে নগরের বান্দ রোডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাংলোতে অবস্থান নেন। প্রতিমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা নগরী থেকে ২০ কিলোমিটার দুরে উজিরপুরের ইচলাদী থেকে শুরু করে নগরীতে প্রবেশপথ গড়িয়ারপাড়, নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজসহ বিভিন্ন পয়েন্টে স্বাগত জানিয়েছেন।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রায়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে সেলাইমেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। সেখানে প্রায় পনের মিনিট বক্তৃতা করলেও ১৮ আগষ্ট রাতের ঘটনা নিয়ে কোন কথা বলেননি।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলার ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান। জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সৈয়দ আনিসুর রহমান ও তিনজন সিটি কাউন্সিলর ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মধু, মহানগর যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান মামুন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ওই সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।
১৮ আগষ্টের রাতের ঘটনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী নীরব থাকলেও ক্ষুদ্ধ কন্ঠে কিছু কথা বলেছেন জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার ও প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আনিচ।
জেলা প্রশাসক বলেন- ‘আমি এবং ইউএনও এখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করি। আমাদের ভদ্রতা-নমনিয়তাকে কেউ দূর্বলতা মনে করবেন না। আমরাও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করে দলের জন্য কাজ করেছি। এখন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসাবে দেশের জন্য কাজ করছি’।
সদর উপজেলার ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান ঘটনার আগেই ১০ আগষ্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলী হয়েছেন। এ বদলী প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা চাইলে ইউএনও মুনিবুর এখানেই থাকবে, এসময় সকলে হাত তুলে সমর্থন জানান।
প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আনিচ তার বক্তৃতায় দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন বর্ণনা করে হতাশার সঙ্গে বলেন, বরিশালের রাজনীতি এখন সন্ত্রাস নির্ভর হওয়ায় তিনি স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে দুরে আছেন। প্রতিমন্ত্রীর শান্তিপূর্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে থেকে তিনি আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চান।
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগষ্ট রাতের ঘটনার পর ২২ আগষ্ট রাতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদলের সরকারি বাসভবনে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *