সৈয়দ জুয়েল:
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ নামের ভূ-খন্ডটি যখন স্বাধীন হয় তখন চারদিকে রক্তের দাগ। একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে সড়ক নেই, কাল ভার্ট নেই, ঘর নেই, শিল্প কারখানা নেই। সবই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। এমনকি দেশটি যেন মাথা তুলে আর না দাঁড়াতে পারে, সেজন্য পরাজয় নিশ্চিত যেনে ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের পর্যন্ত হত্যা করে।
স্বাধীনতার পর পরই পাকিস্তানের এক রুপি সমান ছিলো বাংলাদেশের দুই টাকা। কথিত আছে তখন তাচ্ছিল্যের সুরে পাকিস্তানিরা বাঙালিদেরকে বলতো “দুই টাকার বাঙালি”।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস স্বাধীনতার এই পঞ্চাশ বছরে আজ বাংলাদেশি এক টাকার সমান পাকিস্তানি দুই রুপি আট পয়সা। সহজ এই হিসেবে গর্ব করে বলা যায়-পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেক দূর।
পৃথিবীর অনেক দেশ বছরের পর বছর যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছে। সেখানে আমরা মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতা পেয়েছি। এই অল্প সময়ে স্বাধীনতা পাওয়ায় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়া ভারতেরও অবদান ছিলো।
না হয় আরো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হত জাতিকে। একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন দেখে শুধু এটি সম্ভব হয়েছে।তার ডাকেই বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পরছিলো মহান মুক্তিযুদ্ধে। একটি স্বাধীন দেশ, ভাষা, পতাকা একটি দেশের নাগরিকদের জন্য কতটা জরুরী তা পাকিস্তান আমলে নিষ্পেষিতরাই অনুভব করেছেন। অনেকেরই অভিযোগ-দেশ আরো এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো।
এটিও সত্য আমরা আমাদের মূল লক্ষ্যে এখনো যেতে পারিনি। তবে যতটুকু এগিয়েছি কম নয়। দীর্ঘ এত বছরে গর্ব করে বলার মত অনেক অর্জন আমাদের রয়েছে।
নিন্দুকেরা যাই বলুক আমরা কিন্তু এগুচ্ছি। দূর্নীতি, ক্ষমতার অপ ব্যাবহার,দায়িত্ব অবহেলা সহ নানা অনিয়ম না থাকলে প্রাপ্তির খাতা ষোল আনাই পূর্ন হত। জবাবদিহিতার জায়গায় সবচেয়ে পিছিয়ে আছি আমরা।
স্বাধীনতা পরবর্তী কোন সরকারেরই জবাবদিহিতার জায়গা গুলো নিয়ে বৃহত কোন সাফল্য নেই। অনেকটা যাদুঘরেই রয়েছে জবাবদিহিতা। মন্ত্রী, এমপি থেকে এলাকার মেম্বার পর্যন্ত ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চলেন, কিন্তু তারা ভুলে যান তারা রাষ্ট্রের সেবক।
গনতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থায় কেউ কালো টাকার পাহাড় গড়বে,কেই গাছ তলায় ঘুমাবে।এটি বড়ই বেমানান। শুধু মাত্র জবাবদিহিতার অভাবে আমাদের নৈতিকতা নিচু স্তরে পৌছেছে। দেশকে আরো এগিয়ে নিতে শীর্ষ পর্যায় থেকে একজন চৌকিদারকেও জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাহলে দূর্নীতিবাজরা অসহায় হয়ে পরবে। আর দূর্নীতিবাজরা যত বেশি অসহায় হয়ে পরবে, দেশ তত এগিয়ে যাবে।
ত্রিশ লাখ মানুষকে যারা হত্যা করলো, দুই থেকে চার লাখ নারীকে যারা ধর্ষন করলো, সেই নরপশুদের প্রেতাত্না এখনো রয়ে গেছে বাংলার মাটিতে। যখনি দেশ এগিয়ে যায়, তখন তাদের অন্তরজ্বালার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তবে সংখ্যায় এরা নগন্য। যে জাতি দেশের জন্য অকাতরে প্রান বিলিয়ে দিয়েছে, সে জাতির মাঝে এরকম নগন্য কিছু স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনোই শক্তিশালী হবেনা।
স্বাধীনতার এই সুবর্ন জয়ন্তীতে সকল অপ শক্তি রুখে মানবিকতায় ভরা ভালবাসায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে আরো বহুদূর। মানুষে মানুষে বৈষম্যহীন এক সমাজ ব্যাবস্থায় লাল সবুজের পতাকা হোক আরো শানিত।
