নাগরিক রিপোর্র্ট : ঝালকাঠী শহর সংলগ্ন সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবায় শৃঙ্খলা ফিরেছে। ঢাকা থেকে আসা ৭ জন বার্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শুক্রবার রাত থেকে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া শুরু করেছেন। চিকিৎসার সুবির্ধাতে লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ সকল রোগীকে একটি বড় কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। শনিবার ওই কক্ষে লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ ৩৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে এক্সরেসহ নানা পরীক্ষানীরিক্ষা হাসপাতালের বাইরে বেসরকারী ডায়গণষ্টিক সেন্টারে করতে হওয়ায় রোগী ও স্বজনরা দূর্ভোগে আছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের শেবাচিম হাসপাতালে প্রধান ভবনের চতুর্থ তলার চক্ষু বিভাগের একটি ওয়ার্ড রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধার পর থেকে পর্যায়ক্রমে রোগীদের ওই ওয়ার্ডে আনা হয়। তার আগে অগ্নিদগ্ধরা নারী ও পুরুষ সার্জারী বিভাগ এবং শিশুরা শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
শনিবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, দগ্ধ মুমুর্ষ রোগীদের ট্রলিতে চারতলা নিচে নামিয়ে হাসপাতাল কম্পাউন্ডের বাইরে বেসরকারী ডায়গণষ্টিক সেন্টারে নেয়া হচ্ছে। হাসপাতালের শয্যা থেকে ডায়গনষ্টিক সেন্টারের দুরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। ট্রলির ঝাকুনিতে দগ্ধ রোগীরা কাতরাচ্ছেন। কয়েকজন স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ থাকায় তারা রোগী নিয়ে বাইরে যাচ্ছেন এক্সরে করাতে। একই কথা জানান, অগ্নিদূর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবায় দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউট সদস্যরা।
বেলা দেড়টায় হাসপাতালের দোতালায় প্যাথলজি বিভাগে গিয়ে কথা হয় এক্সরে বিভাগের দায়িত্বরত টেকনিশিয়ান মোস্তফা কামালের সঙ্গে। তিনি বলেন, শুক্র ও শনিবার প্যাথলজি বিভাগের কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি। এ কারনে বিভাগটি বন্ধ ছিল। লঞ্চে অগ্নিকান্ডে আহত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আজ শনিবার সকাল ১০টার পর তারা প্যাথলজি বিভাগ খুলেছেন। মোস্তফা কামাল দাবী করেন, রোগীরা না জেনেই বাইরে ডায়গণষ্টিক সেন্টারে যাচ্ছেন।
দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাষ্টিক সার্জারী ইনষ্টিটিউটের ৫ জন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগের ২ জন চিকিৎসক শুক্রবার বিকালে বিমানে ঢাকা থেকে বরিশালে পৌছেন। এ চিকিৎসক দলে ২জন সহযোগী অধ্যাপক ও অন্যানরা বার্ণ চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ।
ঢাকা থেকে চিকিৎসক প্রতিনিধি দল শনিবার দুপুর ২টায় সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গনমাধ্যম কর্মীদের অবহিত করেন। শেখ হাসিনা বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী ইনষ্টিউটিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাসরুর রহমান বলেন, তারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাখা রোগীদের নির্ধারিত একটি কক্ষে আনার পর তারা ২টায় তাদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়। তিনি বলেন, তারা পৌছার আগ পর্যন্ত বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে সার্জারী বিভাগে চিকিৎসকরা লঞ্চে অগ্নিগদ্ধ রোগীদের যে চিকিৎসা দিয়েছেন তা যথাযথ ছিল।
আরেক সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুরুর রহমান বলেন, অগ্নিদগ্ধ রোগীদের জন্য স্থাপিত অস্থায়ী কক্ষে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ ৩৫ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ বছর থেকে ৭০ বছর বয়সী রোগী আছে। অগ্ধিদগ্ধদের মধ্যে পুরুষ ১৬ জন, নারী ৮ জন এবং শিশু ১১ জন। এছাড়া লঞ্চে অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হননি, তবে শরীর অন্যান্য স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এমন ১১ জন হাসপাতালের অনান্য ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। ডা. নুরুর রহমান আরো জানান, শুক্রবার দুপুর থেকে পর্যায়ক্রমে ১৭ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে। দূর্ঘটনায় আহত ৭২ জনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেকে বাড়িতে ফিরেছেন।
উল্লেখ্য, বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ৩০ শয্যার বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগ চালু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১২ মার্চ। একজন মাত্র চিকিৎসক দিয়ে এ বিভাগটি চলছিল। দায়িত্বরত চিকিৎসক সিনিয়র কনসালট্যান্টডেন্ট ডা. এ এম সজল আজাদ ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরন করেন। এরপরে আর কোন চিকিৎসক পদায়ন না হওয়ায় ওই বছরের ১৫ মে বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী ইউনিটটি বন্ধ করে দেন।
২০২১-১২-২৫
