নাগরিক রিপোর্ট:
ঐতিহ্যবাহী বরিশাল ইসলামীয়া কলেজে ১৬ বছর ধরে কর্মরত প্রভাষক সুলতানা পারভিন। শিক্ষাজীবনের এ পর্যায়ে একটি মাত্র পদোন্নতী পাওয়ার কথা সুলতানার। কিন্তু ঠুনকো একটি চিঠির বরাত দিয়ে ১৬ বছরের সেই ‘সহকারী অধ্যাপক’ হওয়ার স্বপ্ন আটকে দেয়া হয়েছে। বিভাগের এমন অর্ধশত কলেজ শিক্ষকের দীর্ঘবছরের কাংখিত পদোন্নতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কম্পিউটার শিক্ষা (আইসিটি) বিষয়ের এ প্রভাষকরা অভিযোগ করেছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের (মাউশি) কর্মকর্তাদের সেচ্ছাচারিতায় আটকে গেছে তাদের পদোন্নতি। অথচ একই সময়ে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামের কোন কোন শিক্ষকের পদোন্নতি হয়েছে। এ অবস্থার অবসান চেয়ে পদোন্নিত বঞ্চিত শিক্ষকরা গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এর আগে মাউশি মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপিও দেয়া হয়।
বরিশাল বিভাগীয় কম্পিউটার শিক্ষক সমিতির আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলনে অর্ধশত শিক্ষকরা আন্দোলনসহ উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুশিয়ারী দিয়েছেন। তবে মাউশি দাবী করেছে, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের ওই চিঠি বাতিল হলে এই শিক্ষকরা পদোন্নতী পাবেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরেরর বাকশিষ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহবায়ক আগরপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মাহবুবুর রহমান।
প্রভাষক মাহবুবুর রহমান বলেন, বরিশাল বিভাগে তার মত ৫০জন কম্পিউটার শিক্ষা (আইসিটি) বিষয়ক প্রভাষক আছেন যারা ১৬ থেকে ২০ বছর চাকরি করে এখন সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত করবেন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ অনুযায়ী প্রভাষক পদ থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নীতর জন্য তারা মাউশি’র মহাপরিচালক বরারবর আবেদন করেন।
কিন্তু দুভার্গ্যজনক হচ্ছে- মাউশি বরিশাল অঞ্চলের পরিচালকের কার্যালয় ১৯৯১ সালের একটি চিঠির বরাত দিয়ে ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জনের আবেদন বাতিল করে দিয়েছেন। বাকিদেরও একই অযুহাতের ফাঁদে পড়তে হচ্ছে।
অথচ ইতোমধ্যে তাদের সম যোগ্যতার একাধিক প্রভাষক সহকারী অধ্যাপকে পদোন্নতী পেয়েছেন। উদাহরন হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে ময়মনসিংহর ভালুকা সোনার বাংলা কলেজ এবং রাজবাড়ি কলেজের দুই কম্পিউটার শিক্ষকের পদোন্নতীর বিষয় সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।
শিক্ষকরা জানান, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ২০০০ সালের ৩১ আগস্টের নীতিমালা অনুযায়ী কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ে নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী তারা এই ৫০ জন শিক্ষক প্রভাষক হিসেবে বিভিন্ন কলেজে কর্মরত। বেসরকারী শিক্ষক পরীক্ষা গ্রহন, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা-২০০৬ এ একই নীতিমালা রয়েছে।
মুলাদীর চরকালেখান আদর্শ ডিগ্রী কলেজের আনিচুর রহমান বলেন, মাউশি বরিশাল অঞ্চলের সেচ্ছাচারিতার কারনে তারা পদোন্নতী বঞ্চিত হচ্ছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রনালয় সচিব ও মাউশি মহাপরিচালককে লিখিত অবহিত করবেন। অবিলম্বে এই ৫০ জন শিক্ষককে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতী না দেয়া হলে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্ট বরিশাল বিভাগীয় আহবায়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল জানান, শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও মাউশি নানাভাবে শিক্ষকদের হয়রানী করছে। এই শিক্ষকরা ১৬ বছর ধরে চাকরি করে এখন নানা অযুহাতে পদোন্নতী আটকে দিয়েছে। তাহলে এই ৫০জন শিক্ষক কি করে এতোদিন চাকির করলেন। অথচ একই নীতিমালায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রামে বহু কম্পিউটার শিক্ষককে পদোন্নতী দিয়েছে। এভাবে হয়রানী করলে আন্দোলন ও আইনী যুদ্ধে নামবে বরিশালের শিক্ষকরা।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কম্পিউটার শিক্ষক সমিতির যুগ্ন আহবায়ক সৈয়দ বজলুল হক কলেজের প্রভাষক খোকন রায়, ইসলামিয়া কলেজের প্রভাষক সুলতানা পারভিন, মুলাদীর চরকালেখান আদর্শ ডিগ্রী কলেজের আনিচুর রহমান, আগৈলঝাড়ার ছয়গ্রাম স্কুল এন্ড কলেজের ছয়গ্রাম স্কুল এন্ড কলেজের মুন্সি আ: আলিম, বানারীপাড়া ডিগ্রী কলেঝের অঞ্জনা দে, দপদপিয়া ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজের সামসুল আহসান প্রমূখ।
এব্যপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের (মাউশি) পরিচালক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ১৯৯৯ সালের ২৮ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রালয়ের এক চিঠি অনুযায়ী নির্দিস্ট ৬টি বিষয়ের বাহিরের শিক্ষকরা পদোন্নতী পাবেন না। তিনি ২০০ সালের ৩১ আগস্টের নীতিমালাও দেখেছেন, কিন্তু তা গ্রহন করা যাবে না। তিনি বলেন, জটিলতায় পড়া শিক্ষকদের পরামর্শ দিয়েছেন যে, সরকার ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মন্ত্রনালয়ের ওই চিঠি বাতিল করে নতুন আদেশ জারি করতে পারলে তারা পদোন্নতী পাবেন। অন্যান্য বিভাগে শিক্ষকদের পদোন্নতী দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২/১টা হয়তো হয়েছে। তার কাছে শত শত ফাইলের মধ্যে কোন কোনটার ভুল হতেই পারে।
