নাগরিক রিপোর্ট:
জীবনমান পরিবর্তনে বাবার হাত ধরে সুদুর ইটালী পাড়ি দিয়েছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের রাকিব হোসেন শুভ। সেখান থেকে চলে যান জার্মানী। ১১ বছর পর সেই রাকিব বিদেশিনী বধু নিয়ে হেলিকপ্টারে জন্মভুমিতে ফিরলেন। জার্মানি বধূ নিয়ে আসার খবরে রাকিবের গ্রামের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কাগাসুরা বাজার ও উলালবাটনা গ্রামে মানুষের ঢল নামে। নববধু জার্মানী সুন্দরী আলিসা থেওডোরা পিত্তাকে রাজসিকভাবে বরন করে নেন শশুরবাড়ির স্বজনরা।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, রাকিব হাসান শুভ (২৬) জার্মানির একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সেখানে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক ঘটে জার্মানির তরুনী আলিসা থেওডোরা পিত্তার সাথে রাকিবের। ২০২০ সালের ১৫ মার্চ তরুনী পিত্তা ধর্ম ত্যাগ করে বিয়ে করেন রাকিবকে। তাদের ঘর জুড়ে ছেলে সন্তানও আসে।
দীর্ঘদিন পর শনিবার জার্মান বধু আর সন্তানকে নিয়ে দেশে আসেন রাকিব হাসান। এরপর ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে পৌছান চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কাগাশুরা বাজার সংলগ্ন মাঠে। সেখানে জার্মানি বধু ও ছয়মাসের নাতিকে বরন করে নিতে সেখানে হাজির ছিলেন রাকিব হাসানের বাবা-মা ও স্বজনরা। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা-মা।
এর আগেই বিদেশী বধূ আসার খবরে শতশত মানুষ জড়ো হয় কাগাশুরা বাজার এলাকায়। হেলিকপ্টার থেকে তারা নেমে আসার পর ঘোড়ার গাড়িতে করে নেয়া হয় বাড়িতে। ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি আসার খুশিতে দুপুরে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয় বাড়িতে। আমন্ত্রন করে খাওয়ানো হয় আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী সহ ৫ শতাধিক লোককে এমনটাই জানা গেছে এলাকাবাসীর কাছ থেকে।
টানা ১১ বছর পর বিদেশী বধুকে নিয়ে নিজ গ্রামে ফেরা প্রসঙ্গে জার্মান প্রবাসী রাকিব হাসান বলেন, করোনার কারনে জার্মানিতে নানা বিধি নিষেধের মধ্যে থাকতে হয়েছে। বাড়িতে ফেরার জন্য তিনি ও স্ত্রী বেকুল হয়ে উঠছিলেন। আমাদের ৬ মাসের ছেলে ইলিয়াস হাসানকে দেখতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন বাবা-মা ও আত্নীয়স্বজন। বাড়িতে ফেরায় আত্নীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের ভীর আর ভালাবাসায় তার স্ত্রীও অভিভুত। স্ত্রী আলিসা থেওডোরা পিত্তা তাকে জানিয়েছে এখানকার পরিবেশ, অভ্যর্থনা তার ভাল লেগেছে। এমন আতিথিয়তায় তিনি মুগ্ধ, বিস্মিত।
রাকিব জানান, তারা একে অপরকে বুঝতে বুঝতে প্রেমে পরে যান। এক পর্যায়ে তিনি বিয়ের আগে পিত্তাকে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করতে বলেন। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তারা বিয়ে করেন। দেশের মাটিতে পা রাখার পর কতটা যে ভালো লেগেছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। তিনি বলেন, নতুনভাবে বিয়ের উৎসব করবেন। এ দেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী বিয়ের উৎসব হবে। আগামী ৯ মার্চ হবে আমাদের গায়ে হলুদ। ১০ মার্চ গ্রামবাসীর জন্য বউভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
