প্রেম-বিয়ে হয় জার্মানীতে : পরদেশী বধু বরিশালে এলো হেলিকপ্টারে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : জার্মানীর তরুনী আলিসা থেওডোরাকে বিয়ে করে বরিশালের গ্রামের বাড়ি নিয়ে এসেছেন রাকিব হাসান শুভ (২৬)। রাকিব জার্মানীর একটি কোম্পানীতে চাকুরী করছেন ২০১২ সাল থেকে। জার্মানীতে একই এলাকায় বসবাসের কারনে ৪-৫ বছর আগে আলিসা থেওডোরার সঙ্গে পরিচয় হয় রাকিব হাসানের। আস্তে আস্তে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়। এক পর্যায়ে রাকিব ও আলিসা একে অপরের প্রেমে পড়েন।
রাকিব হাসান শুভ বরিশাল সদর উপজেলার নগরী লাগোয়া চরবাড়িয়া ইউনিয়নের উলাল বাটনা গ্রামের শহীদুল ইসলাম ওরফে ইতালী শহীদের একমাত্র ছেলে। শহীদুল ইসলাম চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি।
শহীদুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালের ১৫ মার্চ রাকিব ও আলিসা পরস্পরকে ভালবেসে বিয়ে করে। বিয়েতে আমাদের এবং আলিসার পরিবারের সম্মতি ছিল। তবে বিয়েতে বরপক্ষের হয়ে শুধু আমি যেতে পেরেছি। কিন্ত কনে পক্ষের অভিবাবক ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। আমি ছাড়া আমার পরিবার এবং স্বজনদের মধ্যে কারো বিয়েতে থাকা সম্ভব হয়নি। আলিসা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে।
বিয়ের পর থেকে পুত্রবধুকে দেখার জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিলেন রাকিব হাসানের মা নাসরিন জাহান মুন্নী। আবার রাকিবের একমাত্র বোন সাদিয়া ইসলাম যুথিও পরদেশী ভাবিকে দেখার জন্য ছিলেন ব্যাকুল। রাকিব হাসান বলেন, বিয়ের পর ইচ্ছে ছিল অল্পদিনের মধ্যেই নবপরিণীতাকে নিয়ে বরিশালের গ্রামের বাড়িতে আসার। জার্মানীতে তেমন কোন অনুষ্ঠান করতে পারিনি। তাই মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম বরিশালের বাড়িতে ফিরে ব্যাপক আয়োজন করে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশৗ ও শুভাকাংক্ষীদের নিমন্ত্রন করে বড় অনুষ্ঠান করব। কিন্ত মহামারি করোনার কারনে বিয়ের পর দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে আমার কখনও কখনও খুব মন খারাপ হতো। অপেক্ষায় ছিলাম কবে করোনার দু:সহ দিন কেটে স্বাভাবিক সময় আসবে আর কবে নববধুকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাবো। আমাদের সঙ্গে আলিসার বান্ধবী লাইসাও এসেছে।
বাড়িতে আসার অধীর অপেক্ষার মধ্যে রাকিব আলিসার কোল জুরে আসে ফুটফুটে ছেলে সন্তান। ছেলের বয়স এখন ৬ মাস। নাম ইলিয়াস হাসান ইভান। রাকিবের বাবা শহীদুল ইসলাম বলেন, শনিবার বেলা পৌনে ১২টায় হেলিকপ্টারে করে বরিশালের গ্রামের বাড়িতে আসে রাকিব, স্ত্রী আলিসা, নাতি ইভান এবং আলিসার বান্ধবী লাইসা। ওরা বাড়ি আসায় আমাদের প্রায় দুই বছরের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। শনিবার দিন সকালে জার্মান থেকে রাকিব আলিসা, ছেলে ও লাইসাকে নিয়ে ঢাকায় পৌছায়।
রাকিবের মা নাসরিন জাহান মুন্নী সমকালকে বলেন, ‘আমি খুব খুশী। আমার ছেলে ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলা বলতে পারে। আমাকে জিজ্ঞেস করে মা তুমি কেমন আছো? আসস্লামুওয়ালাইকুমও বলতে পারে। নাতি ইভানকে কোলে নিলে বুকটা জুরিয়ে যায়’।
রাকিবের একমাত্র বোন সাদিয়া ইসলাম যুথি বলেন, ‘আমার খুব আনন্দ লাগছে। ভাবী অনেক মিশুক। আমাকে যুথি বলে নাম ধরে ডাকে’।
শহীদুল ইসলাম জানান, জার্মানীতে আমাদের রেওয়াজ অনুযায়ী বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠান করা হয়নি। তাই আবার সব আয়োজন করেছি। ৯ মার্চ হবে ওদের গায়ে হলুদ। ১১ মার্চ দুপুরে আয়োজন করেছি বৌভাত অনুষ্ঠানের। আড়াই হাজার মানুষকে বৌভাতে দাওয়াত করবো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব ও তাঁর পরদেশী বউকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি স্থানীয় কাগাশুরা বাজার সংলগ্ন মাঠে অবতরণ করলে তাঁদের বরণ নেন রাকিবের বাবা-মা ও স্বজনরা। মা-বাবা ছেলে ও ছেলের বউকে জড়িয়ে ধরেন। নাতিকে কোলে নিয়ে আদর করেন। রাকিব হেলিকপ্টারে করে বউ নিয়ে আসছে এই খবর আগেই এলাকাবাসী জেনেছিল। এজন্য কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন কাগাশুরা বাজার সংলগ্ন মাঠে। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাকিবের বাবা শহীদুল ইসলাম বলেন, ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি আসায় শনিবার দুপুরেই ৮০০ মানুষকে খিচুরী ও মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করেছি। আজ রোববার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই হাজার মানুষকে বরিশালের বিখ্যাত ‘হক মিষ্টান্ন ভান্ডার’র মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করেছি।
শহীদুল ইসলাম বলেন, ২০১১ সালে তিনি ছেলে রাকিবকে নিয়ে ইতালি যান। পরবর্তীতে ইতালী থেকে রাকিব চলে যায় জার্মানীতে। সেখানে আলিসা থেওডোরার সঙ্গে রাকিবের পরিচয় হয়। আলিসা পেশায় একজন নার্স। আলিসা’র সঙ্গে প্রেম হওয়ার পর রাকিব তাকে বিয়ে করার জন্য আমাদের সম্মতি চেয়েছিল। ভিডিও কলে আলিসাকে দেখে আমরা সম্মতি দিয়েছি। আলিসারের পরিবারেরও এ বিয়েতে সম্মতি ছিল।
রাকিব হাসান শুভ বলেন, বাড়ি আসতে পেরে আমার অনেক দিনের আশা পুরন হয়েছে। আমাদের পেয়ে বাবা-মা ও বোন আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। আলিসা এই প্রথম বাংলাদেশে এসেছে। এখানকার সবুজ প্রকৃতি ও মানুষের আথিয়েতা আলিসার ভাল লাগছে বলে সে জানিয়েছে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *