নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রদলের অভ্যন্তরীন বিরোধে পুলিশী হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন মিলনের বিরুদ্ধে বিরোধীয় এক পক্ষের হয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নেয়ামুল হক নাহিদকে আটক করে নির্যাতন করার অভিযোগ করা হয়েছে। নির্যাতনের সময়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটিগুলো কেন ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে এবং নতুন করে পদায়ন ও পদবঞ্চিত বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেছেন ওসি মিলন।
নির্যাতনের শিকার ছাত্রদল নেতা নেয়ামুল হক নাহিদ এসব অভিযোগ জানিয়ে বলেন, দাড়িয়াল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাওলাদারের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ওসি আলাউদ্দিন মিলন এ কাজ করেছেন। নাহিদ তার অভিযোগ লিখিতভাবে ছাত্রদলের বিভাগীয় সমম্বয়ক হাফিজুর রহমানকে দিয়েছেন।
নেয়ামুল হক নাহিদ জানান, গত ৫ মার্চ তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রদলের কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেন। সন্ধ্যার পর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল হোসেন খানের সাহেবগঞ্জ সড়কের বাসার সামনে দাড়িয়েছিলেন। ৩ জন সাদা পোশাকধারী তাকে আটক করে হাটিয়ে প্রায় আধাকিলোমিটার দুরে পরিত্যাক্ত থানা কম্পাউন্ডের অন্ধকার বাগানের মধ্যে যায়। পথে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন ওসি আলাউদ্দিন মিলন।
নেয়ামুল হক নাহিদ জানান, অন্ধকার বাগানের মধ্যে প্রায় একঘন্টা আটকে রেখে পুলিশ তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। ওসি আলাউদ্দিনের মিলনের করা প্রশ্নের বেশীরভাগই ছিল ছাত্রদলের ইউনিয়ন কমিটি গঠন সংক্রান্ত।
নাহিদ বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারী উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেছেন। এতে পদ-প্রত্যাশা নিয়ে কয়েকটি ইউনিয়নে বিরোধ চলছে। ওসি আলাউদ্দিনের প্রশ্ন শুনে মনে হয়েছে, একপক্ষের হয়ে তাকে আটক ও নির্যাতন করেছেন। নাহিদ জানান, তাকে আটকের পর স্থানীয় এমপি আবুল হোসেন খান নানামুখী তদ্বির করলে প্রায় একঘন্টা পর তাকে নির্জন স্থান থেকেই ছেড়ে দেয়।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে নাহিদ উল্লেখ করেছেন, দাড়িয়াল ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ হাওলাদার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পুলিশ তাকে আটক ও নির্যাতন করেছে।
এ বিষয়ে মাসুদ হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ঘটনার ১৫ দিন আগে থেকে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ৫ মার্চ সন্ধার পর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল হোসেন খান তাকে মুঠোফোনে কল দিয়ে জানান, ‘নাহিদকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে, তাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করো। এরপরে আমি ও আবুল হোসেন খান বিভিন্ন জায়গায় তদ্বির করলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। নাহিদ তার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ তুললো জানতে চাইলে মাসুদ হাওলাদার বলেন, নাহিদের সঙ্গে তার কোন বিরোধ নেই। অভিযোগ তোলার কারনও জানেন না। অভিযোগের বিষয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রাঢ়ী বলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হক নাহিদের করা অভিযোগের অনুলিপি তারাও পেয়েছেন। নাহিদ মৌখিকভাবে তাদের জানিয়েছেন, বিএনপি নেতা মাসুদ হাওলাদার পুলিশ ব্যবহার করে তাকে নির্যাতন করিয়েছে। এ অভিযোগ দলীয়ভাবে তদন্ত হচ্ছে।
বিএনপি সভাপতি আবুল হোসেন খানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় নাহিদের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলার সাধারন সম্পাদক নাসির হাওলাদার বলেন, ঘটনার সময় তারা আবুল হোসেন খানের বাসায় মিটিং করছিলেন। বাহির থেকে পুলিশ নাহিদকে তুলে নিয়ে যায়। আধাঘন্টা পর তাকে ছেড়ে দিয়েছে। নাসির হাওলাদার বলেন, নবগঠিত ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে ৫-৬টি ইউনিয়নে বিরোধ আছে। পুলিশ কার দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে পুরো অভিযোগের বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ছাত্রদলের অভ্যন্তরীন বিরোধের জেরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা নিজেরা নিজেরা মারামারি করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সব পক্ষকে ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পুলিশ কাউকেই আটক করেনি। ধাওয়ার মুখে মোবাইল হারিয়ে যাওয়ায় এক ছাত্রদল নেতার কিছু সময় সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে তারাও শুনেছেন।##
২০২২-০৩-১৬
