নাগরিক ডেস্ক:
‘দেশে শক্তিশালী কোনো বিরোধী দল নেই’—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন আক্ষেপের সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই আক্ষেপ ঘুচতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ওই আক্ষেপের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা মূল বিষয়গুলোকে এড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছু না। শক্তিশালী বিরোধী দল আছে বলেই এখন পর্যন্ত কথাগুলো আমরা বলছি। কিন্তু সংসদে বিরোধী দল নাই তাদের কারণেই। তাঁরা এই দেশে গণতন্ত্রের কোনো পরিসরই রাখে নাই।
গণতন্ত্রের পরিসর না থাকলে একটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের মধ্যে উনি (প্রধানমন্ত্রী) কোনো ধরনের শক্তিশালী বিরোধী দল দেখতে চাচ্ছেন, সেটা আমরা ঠিক বুঝি না। কিন্তু উনি যেটা চাচ্ছেন দেখতে, হয়তো অল্প সময়ের মধ্যে সেটা দেখতে পাবেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গুম-খুন-নির্যাতনের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই বলে আসছি যে ঘটনাগুলো বাংলাদেশে ঘটছে, সেগুলোর ওপর গণতান্ত্রিক বিশ্ব অনেক আগে থেকেই কাজ করছে।
এমনটা নয় যে, এখন করছে। প্রত্যেক বছর যুক্তরাষ্ট্র এই মানবাধিকার রিপোর্ট বের করে, প্রত্যেকটা দেশের ওপরই বের করে। সেখানে (প্রতিবেদনে) বাংলাদেশের নির্বাচন, বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হয়রানি, গুম, খুন-এটা তাঁরা বলেই আসছে।
বিশেষ করে সম্প্রতি র্যাবসহ ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞা কি প্রমাণ করে? এগুলোতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, এটা শুধু আমাদের কথা নয়, এটা এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সত্য যে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার, তারা একটা সম্পূর্ণ ফ্যাসিবাদী সরকার, গণতন্ত্রের আশে-পাশা তারা নেই, গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। বাংলাদেশের সংবিধানের যে বিষয়টা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সেটাকেই তারা ধ্বংস করে ফেলেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিবেদনের প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনে পড়বে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন হবে কী হবে না-সেটা তো নির্ভর করবে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে কি হবে না তার ওপর। নির্বাচনের পরিবেশ এখানে যদি তৈরি হয়, তাহলে সেখানে নিশ্চিত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সেই আন্দোলনেও এটার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
শুক্রবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ এই সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।
