নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন সুমন রাঢ়ীর নেতৃত্বে নুরুল হুদা পাপ্পু নামক এক আওয়ামীলীগ কর্মীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। হামলার পর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম মিঠুর সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালিয়ে সুমন রাঢ়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল বিনিময় ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। অসংখ্য বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। এনিয়ে উপজেলায় শুক্রবার উপজেলায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পৌর শহরে ২০০ গজ দুরত্বের মধ্যে দুইপক্ষ পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে আছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
হামলার শিকার নুরুল হুদা পাপ্পু অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো’ এর সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদের ভাই শাহজাহান মাহমুদের ছেলে। পাপ্পু মুলাদী থানার পাশে নিজ বাড়িতে থাকেন। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা হাসপাতালের সামনে হামলার শিকারের পর তাকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনার জন্য অভিযুক্ত পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সুমন রাঢ়ী জানান, পাপ্পু উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ সম্পাদক। চারদলীয় জোট সরকার আমলে সে মুলাদীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তখন সে অসংখ্য নেতাকর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে। বর্তমানে সে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মিঠুর সর্বাক্ষনিক সঙ্গী হিসাবে থাকে।
বৃহস্পতিবার বিকালের ঘটনার সম্পর্কে সুমন রাঢ়ী বলেন, গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় পাপ্পু পৌর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের লঞ্চে উঠতে বাঁধা দেয়। এনিয়ে তখন বাপ্পুর সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের হাতাহতি হয়েছিল। লঞ্চে লাঞ্ছিত কয়েকজন কর্মী বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা হাসপাতালের সামনে পাপ্পুকে পেয়ে সেদিনের ঘটনার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে দুব্যবহার ও গালাগলি করলে তাকে মারধর করা হয়। সুমন দাবী করেন, ঘটনার সময় তিনি বরিশাল নগরে ছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানিয়েছে, লোহার রড দিয়ে পাপ্পু বেদম মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মিঠু শতাধিক নেতাকর্মী হাসপাতালে আসেন। একপর্যায়ে তারা বিক্ষোভ করে হাসপাতালে অদুরে আলমগীর হোসেন সুমন রাঢ়ীর মালিকানাধীন ‘পাতাঝুড়ি কম্পিউটার’ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। সুমন রাঢ়ীর লোকজন তখন অদুরে রাঢ়ী বাড়ির সামনে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে পাল্টা অবস্থান নেয়। উপজেলা চেয়ারম্যানের কর্মীরা রাঢ়ী বাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ দুপক্ষের মাঝে অবস্থান নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এসময় দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল বিনিময় এবং অগনিত হাত বোমার বিস্ফোরনের ঘটানো হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম মিঠু সম বলেন, পাপ্পু আওয়ামীলীগ কর্মী। সে সর্বক্ষনিক তার সঙ্গে থাকে। এ কারনে সুমন রাঢ়ীর নেতৃত্বে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। হামলার পাপ্পু দুটি হাত ও একটি পা ভেঙ্গে গেছে। সে বর্তমানে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে আছে।
হামলার পরে সুমন রাঢ়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও পাল্টা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মিঠু বলেন, তিনি পাপ্পুর চিকিৎসার খোঁজখবর নেয়ার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে কিছুই হয়নি।
পাপ্পুর স্ত্রী শিমু বেগম জানান, পাপ্পু আওয়ামীলীগ করলেও দলে তার কোন পদ নেই। উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকায় পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সুমন রাঢ়ীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা করেছে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম মাকসুদুর রহমান জানান, পাপ্পুর ওপর হামলার পর দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল। এসময় শব্দ শোনা গেছে, তবে সেটা হাতবোমা কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওসি জানান, বৃহস্পতিবার বিকালের ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
