নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালে ছাগলের চামরা সংগ্রহ করে বিপাকে পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের ক্রেতারা। তাদের কাছ থেকে ছাগলের চামরা ক্রয় করেননি চামরা ব্যবসায়ীরা। গরুর চামরা ক্রয় করা করা হলেও মাঠের ক্রেতাদের কাছে টাকা বাকি রাখা হয়েছে। ঈদুল আযাহার পরে বরিশালে কোরবানীর পশুর চামরা ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
একাধিক চামরা ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এবছর বরিশালে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের আধিক্য ছিল কম। মাদরাসা-এতিমখানার পক্ষ থেকে মাদ্রাস সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো নগরের পদ্মাপতি ও হাটখোলা এলাকার চামরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। ব্যবসায়ীরাই জানিয়েছেন, তারা ছাগলের চামরা ক্রয় করেননি। বেশীরভাগ গরুর চামরা ক্রয় করেছেন অর্ধেক টাকা বাকি রেখে। ক্রয় করা চামরা লবন দিয়ে সংরক্ষন করে ঢাকার ট্যানারী মালিকদের কাছে বিক্রির পর টাকা পেলে বাকি রাখা টাকা পরিশোধ করবেন।
প্রসঙ্গত, বরিশালে এখন মাত্র ৪-৫ জন ব্যবসায়ী পশুর চামরা ব্যবসা করেন। ঢাকার ট্যানারী মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, এমন অজুহাত দেখিয়ে অন্যান্য ব্যবসায়ীা চামরা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।
হাটখোলার চামরা ব্যবসায়ী মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ছাগলের একটি চামরা প্রক্রিয়াজাত করতে ৩ কেজি লবনের প্রয়োজন হয়। এছাড়া শ্রমিক ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে যে টাকা ব্যয় হয় ট্যানারী মালিকরা সেই দামে চামরা ক্রয় করেন না। এ কারনে বরিশালের চামরা ব্যবসায়ীরা ছাগলের চামরা ক্রয় করেননি। বাচ্চু মিয়া জানান, মাঠ পর্যায়ের ক্রেতারা গরুর চামরার সঙ্গে ছাগলের চামরাও এনেছিলেন। তারা ছাগলের চামরা ফিরিয় দিয়েছেন। অনেকে হতাশ হয়ে ছাগলের চামরা ফেলে রেখে চলে গেছেন।
আরেক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, ঢাকার ট্যানারী মালিকরা ছাগলের চামরা নেন না। যে কারনে তারাও মাঠের বিক্রেতাদের কাছ থেকে ক্রয় করেননি।
নগরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের দারুচ্ছুন্নাত মাদ্রাসার মোহতারামি মাওলানা রূহুল আমিন জানান, তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গরুর চামরার সঙ্গে কিছু সংখ্যক ছাগলের চামরা সংগ্রহ করা হয়। কিন্ত পোর্ট রোড মোকামের ব্যবসায়ীরা ছাগলের চামরা ক্রয় করেননি। চামরা সেখানেই ফেলে রেখে এসেছেন।
এদিকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামরা ক্রয় করা মৌসুমী ব্যবসায়ী ও মাদরাসার লোকজন ঈদুল আজাহার দিন বিকাল থেকে পদ্মাপতি এলাকায় আসতে শুরু করেন সংগৃহীত চামরা নিয়ে। তারা জানান, ব্যবসায়ীা সিন্ডিকেট করে মাঝারী আকৃতির গরুর প্রতিপিস চামরা ৩৮০ টাকা দর দিয়েছেন। সব টাকা পরিশোধও করেননি। তবে ব্যবসায়ীরা দাবী করেছেন, চামরার সাইজ ভেদে প্রতিপিস ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন।
চামরা ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জানান, ৪০০ টাকায় একটি গরুর চামরা ক্রয়ের পর সংরক্ষনের জন্য লবন ও শ্রমিক এবং ট্যানারী মালিকদের কাছে পৌছাতে পরিবহন খরচসহ মোট ৭০০ টাকা ব্যয় হয়। ট্যানারী মালিকদের কাছে ওই পরিমান টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই তিনি মাঠের সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে অর্ধেক টাকা বাকিতে চামরা কিনেছেন।
ভোক্তা সংরক্ষন অধিদপ্তর বরিশাল দপ্তরের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ শোয়াইব মিয়া বলেন, তারা চামরার বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন ও মনিটরিং করছেন। গতবছরের চেয়ে এবার দাম কিছুটা বেশী ছিল। ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে বরিশালের ব্যবসায়ীদের অনেক টাকা বকেয়া রয়েছে। তাই বরিশালের ব্যবসায়ীরা অর্থ সংকটে থাকায় বাকিতে চামরা ক্রয় করেছেন। ভোক্তা সংরক্ষনের এ কর্মকর্তা বলেন, ব্যবসায়ীরা বাকিতেও ক্রয় না করলে বরিশালে কোরবানীর পশুর চামরা নিয়ে বিপর্যয় হতো। ##
