শ্রাবনের শেষদিনে আকাশভাঙ্গা বৃষ্টি ও উচু জোয়ারে ভাসল বরিশাল নগরী

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : শ্রাবনের শেষ দিন  রোববার আকাশভাঙ্গা বৃষ্টি ও উচু জোয়ারে ভাসল বরিশাল নগরী। বৃষ্টি ও জোয়ারে পানি এ দুয়ে মিলে রোববার বিকালে বরিশাল নগরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সড়ক ছিল হাটু পানির নিচে। নগরের উচু কয়েকটি সড়ক ছাড়া সবই ডুবে ছিল। কোথাও কোথাও পানির পরিমান হাটুর ওপর অতিক্রম করেছে। অপরদিকে টানা ৫দিন যাবত দক্ষিণাঞ্চলের সব নদনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীর পানি উপচে একের পর এক লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে। অতি বৃষ্টি ও জোয়ারে পুরো দক্ষিণাঞ্চলেই জনদূর্ভোগ চলছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. আবদুল কুদ্দুস রোববার সন্ধ্যা ৭টায় জানান, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘন্টায় ৭৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। তিনি জানান, সাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের প্রভাবে গত ২-৩ দিন যাবত বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। অপরদিকে পূর্ণিমার প্রভাবে নদনদীতে চলছে অস্বাভাবিক জোয়ার। যে কারনে নগরের বেশীরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি আরও ২-৩ দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

রোববার বিকালে নগরের প্রধান সড়ক সদর রোড, হেমায়েত উদ্দিন রোড, নবগ্রাম রোড বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সবগুলো সড়ক কীর্তণখোলার জোয়ারের পানিতে ডুবে আছে। খোঁজ নিয়ে নগরের প্রায় সবগুলো সড়কের একই অবস্থা। ড্রেন দিয়ে কীর্তণখোলর পানি মুল নগরের মধ্যে প্রবেশ করেছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে অঝোর ধারার বৃষ্টির পানি। রোবাবার সারাদিনই বরিশাল নগরে বৃষ্টিপাত হয়েছে। কীর্তণখোলার তীরবর্তী লোকালয় আমানতগঞ্জ, ভাটারখাল, পলাশপুর, রূপাতলীসহ অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি প্রায় কোমর সমান পানির নিচে তলিয়ে আছে।

নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর সড়কের বাসিন্দা এম মিরাজ হোসাইনের বাসা থেকে চোখে দেখা দুরত্বে কীর্তণখোলা নদী। মিরাজ হোসাইন সমকালকে বলেন, বর্ষা মৌসুমের প্রতিটি আমবশ্যা-পূর্ণিমায় তাদের এলাকায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এবার পানির পরিমান অনেক বেশী বলে জানান তিনি। মিরাজ বলেন, জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। ভাটায় পানি নামা শেষ হওয়ার আগেই পূনরায় জোয়ার শুরু হয়। ফলে পরবর্তী জোয়ারে আরও উচু করে প্লাবিত হচ্ছে তাদের বসত এলাকা। বাংলাদেশ বেতার বরিশাল’র আঞ্চলিক পরিচালক কিশোর রঞ্জন মল্লিক বলেন, বৃস্টি এবং জোয়ারের পানিতে বরিশাল বেতারের পুরো চত্বর ডুবে আছে।

নগরের ভাটিখানা সড়কের অসিত দাস জানান, তাদের এলাকার প্রায় সড়ক হাটু পরিমান পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে। জোয়ারের সঙ্গে লাগাতার বৃষ্টিতে এবার পনির পরিমান অনেক বেশী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার অন্যান উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়গুলোতে একই অবস্থা।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুত্র জানিয়েছে, পাউবো দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীর ১০টি পয়েন্টে পনির পরিমাপ রেকর্ড করে। রোববারও সবগুলো পয়েন্টে পানির লেভেল বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এনিয়ে টানা ৫দিন যাবত দক্ষিণাঞ্চলে নদনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রোববার কীর্তণখোলার পানির লেভেল ছিল বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে। সর্বাধিক উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে পাথরঘাটার বিষখালী নদীতে। সেখানে বিপদসীমার লেভেল হচ্ছে ২ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার। রোবাবার এ নদীর পানি ৪ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই লেভেলে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ভোলার তমুজদ্দিন উপজেলা সংলগ্ন মেঘনা-সুরমা নদীর পয়েণ্টে। সেখানে বিপদসীমার লেভেল হচ্ছে ২ দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটার।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *