ঈদের পর রাজধানীসহ দেশের বাজারে চাল, সবজি ও মুরগিসহ নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম বাড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গত এক মাসে মিনিকেট ও মোটা চাল, আলু, দেশি পেঁয়াজ, টমেটো, করলা, বেগুন ও সোনালি মুরগির দাম খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে মানভেদে ৮২ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন মোটা চাল ব্রি-২৮-এর দামও ৩ থেকে ৭ শতাংশ বেড়ে ৬০–৬২ টাকা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল পর্যায়ে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। তবে চালকল মালিকরা দাবি করছেন, ধানের সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়াতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার সঠিকভাবে বাজার তদারকি না করায় অসাধু মজুদদার ও বড় করপোরেট ব্যবসায়ীরা ধান কিনে মজুদ করে রেখেছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া আলুর দাম বেড়ে কেজিতে ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৫৫–৬০ টাকা এবং টমেটো ১০০–১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা ও বেগুনের দাম ৮০–১০০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি মুরগির দাম এক মাসে ১২–১৪ শতাংশ বেড়ে কেজিতে ২৮০–৩২০ টাকা হয়েছে।
রামপুরা বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সাদিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আয় বাড়েনি, কিন্তু প্রতিনিয়ত খরচ বাড়ছে। চাল, সবজি ও মুরগির দাম শুনলেই আতঙ্ক লাগে।”
চাল ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, “এই ভরা মৌসুমে দাম বাড়ার যুক্তি নেই। মিলাররা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে।”
এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, “সরকারকে বাজার তদারকিতে কঠোর হতে হবে। মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে খোলা বাজারে চাল বিক্রি জোরদার করতে হবে। না হলে চালের বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠবে।”
