সৈয়দ জুয়েল ॥ কান্নার মত এত গভীরের কিছু কি আছে? একজনের দু:খ হয়তো অন্যজনকে স্পর্শ করে না। কিন্তু একজনের চোখের জল অন্যকে স্পর্শ করে গভীরভাবে। গতকাল যখন আবরার হত্যার দুজন প্রত্যক্ষদর্শী মৃত্যু যন্ত্রনার মর্মস্পর্শী বর্ননা দিচ্ছিল যা দেখে দেশের সবারই চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পরছিল। পরিস্কার পানি কাগজে পরলে, তা শুকিয়ে যাওয়ার পরও দাগ থেকে যায়। আর এ তো রক্তের দাগ, সহজে কি মুছে যায়? আবরারের লাশ দাফন থেকে পরবর্তী কিছু ঘটনাও জনমনে বিরুপ প্রভাব পরছে।
ভি,সি যখন আবরারের গ্রামের বাড়ীতে যান, তখন তিনি তোপের মুখে সেখান থেকে ফিরে এসেছেন, এটা স্বাভাবিক ঘটনা। আপনি একজন ভিসি হয়ে ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হয়েছেন, আপনার সান্তনার বানী তারা কেন শুনবে? এরপরের ঘটনা আরো বেদনার, একজন ভাই তার ভাইকে হারানোতে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সেখানে একজন পুলিশ কর্মকর্তা তার গায়ে হাত তোলা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। পৃথিবীর কোন গনতান্ত্রিক রাস্ট্রে পুলিশ জনগনের গায়ে হাত তোলার অধিকার রাখেননা। এটা আইনে পরিস্কার লেখা আছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যদি এ ধারাগুলো না যানেন, এটা লজ্জার।
আবরার হত্যায় ক্যাসিনো ধামাচাপা পরে গেছে, আবার নুতন কোন ঘটনায় আবরার হত্যা হয়তো পর্দার অন্তরালে চলে যাবে। কিন্তু পিছনে পরে থাকবে এক করুন আর্তনাদ। শিক্ষা প্রতিণ্ঠানগুলো হলো দেশ পরিচালনার কারিগর। এখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদারের দাবী সাধারন মানুষের। শুভ্র কাপড়ে মোড়ানো নিথর দেহ দেখার জন্য কোন বাবা-মা তাদের সন্তানদের শিক্ষাঙ্গনে পাঠাননা। এ জাতীয় অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে বাবা, মায়েরা তাদের সন্তানদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পাঠাতে নিরুৎসাহিত হবে, যেটা উন্নত জাতি গঠনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এটা আমাদের জন্য শুভকর নয়।
সেক্সপীয়র তার এক কথায় বলেছিলেন- সুখী তারাই, যারা ভাঙ্গনের টের পেয়ে তা মেরামত করে। আমরা সুখী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই,এর জন্য দরকার একটা শুদ্ধি মেরামতের। আমরা ওই মেরামতের অপেক্ষায়।

