নাগরিক রিপোর্ট ॥ ঘূর্নিঝড় বুলবুল থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয় কেন্দ্রে এখনও পৌছায়নি বরিশালের বহু মানুষ। ঘূর্নিঝড়ের ঝুকিতে থাকা সত্বেও আগ্রহ নেই দুর্গতদের। জেলার ১০ উপজেলায় নদী তীরবর্তী চর এলাকা থাকলেও সেখানকার তুলননামুলক কম মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান করছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে, জেলার ২৩২টি সাইক্লোন শেল্টারে শনিবার বিকেল নাগাদ ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর করে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ খোজ নিয়ে জানা গেছে, মেঘনা নদী ঘেরা মেহেন্দীগঞ্জে ৪৫টি আশ্রায় কেন্দ্রে বিকেল পর্যন্ত ৭ হাজার ৬শ মানুষ অবস্থান করছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দাবী করেছেন। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় চরবাসী আছেন কম পক্ষে ৫০ থেকে ৬০ হাজার। ঝুকি নিয়ে এসব মানুষ এখনও বসবাস করছেন।
মেঘনা সংলগ্ন হিজলা উপজেলায় ৫৬টি আশ্রায়ন কেন্দ্র রয়েছে। তাতে সাধারন মানুষের যাওয়ার জন্য আগ্রহ নেই বলে জানা গেছে। বাবুগঞ্জ উপজেলায় ২৮টি সাইক্লোন সেল্টারে ২৪শ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবী করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, বাবুগঞ্জে দেড় লাখ লোকের বসবাস। তুলনামুলক কম মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে গেছে। তার ভাবছে যে কিছু হবে না।
মুলাদীতে ১৫টি কেন্দ্রে তেমন লোকজন যায়নি। ব্যাপক প্রচারের কারনেও আশ্রয় কেন্দ্রগুলো অনেকটা শুন্য। এর কারন হিসেবে জানা গেছে, মালামাল রেখে যেতে চায় না। একই অবস্থা সদর উপজেলা, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জে।
তবে জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও সিপিপি’র কর্মীরা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলাচ্ছেন। চলছে বিরামহীন মাইকিং। শনিবার বিকেল থেকে বৃস্টির পাশাপাশি বইতে শুরু করেছে ঝোড়ো হাওয়া। কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে।
এদিকে ঘূর্নিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় বিভাগীয় কমিশনার মো. ইয়ামিন চৌধুরী শনিবার দুপুরে সার্কিট হাউজে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, বরিশাল বিভাগে ২ হাজার ১১৪টি সাইক্লোন শেল্টার সেন্টার রয়েছে। যেখানে ১৭ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মানুষের জীবনরক্ষার জন্যই তাদের জোর করে সাইক্লোন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ উপকূলীয় বেশকিছু এলাকা মানুষ তাদের মালপত্র ছেড়ে সাইক্লোন শেল্টারে যেতে অনীহা প্রকাশ জানান।
দুর্যোগ মোকাবিলায় শনিবার এক সভায় সিটি কাউন্সিলরদের নির্দেশ দিয়েছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, চোখের সামনে কোন দুর্যোগ দেখলে কারো নির্দেশনার অপেক্ষা এবং অর্থের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না।
বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ জেলার ২৩২টি সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, আনসার ও সিপিপি’র কর্মী সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রায় ১০ হাজার কর্মী অধিক ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০১৯-১১-০৯
