ঝাউতলা পুকুর দখল চেস্টা, নিষেধাজ্ঞা লংঘন

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশাল নগরীর ঝাউতলায় জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্য ঐতিহ্যবাহী একটি পুকুর দখলের পায়তারা চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল পুকুরটির একাংশে পাইলিং দিয়ে তাতে নির্মান সামগ্রী ফেলে রেখেছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, ঝাউতলা পুকুরের আকার স্থিতিঅবস্থায় রাখতে হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু আদালতের ওই আদেশ লংঘন করে নির্মানাধীন একটি বহুতল ভবনের মালিকরা পুকুরের একাংশ দখলের চেস্টা চালাচ্ছে।
বরিশল নদী খাল বাচাঁও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ২০১২ সালে জনস্বার্থে ব্যবহৃত ঝাউতলা দ্বিতীয় গলির পুকুরটি ভরাটের চেস্টা চলছিল। ওই সময়ে নগরবাসী আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মঞ্জিল মোর্শেদ এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে আদালত ওই সময়ে পুকুরটির আকার যেমন আছে তেমন রেখে তা পরিবর্তনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এরপরও গত কয়েক বছরে প্রভাবশালীরা এটি ভরাটের চেস্টা চালালে পুকুরের পার্শবর্তী বাসিন্দা ও ভাষা সৈনিক প্রয়াত নিখির সেনকে নিয়ে তারা আন্দোলন করেছেন। সম্প্রতি পুকুরের বিপরীতে একটি ৯ তলা বিশিস্ট ভবনের মালিকগন পুকুরটির পূর্বপাশের পাড় পাইলিং দিয়েছে। তাতে ইট, সুরকি, মাটি, বালু রাখা হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছেন, পুকুরের একাংশ দখল হয়ে গেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা লংঘন করে পুকুরের আকার ক্ষতিগ্রস্থ করায় এলাকাবাসীও ক্ষুব্ধ।
জানতে চাইলে পুকুরের পার্শবর্তী ঝাউতলা সার্বজনীন দুর্গা মন্দীরের সহ সভাপতি শিব শংকর দাস বলেন, পুকুরের দুই কর্নার দিয়ে ধীরে ধীরে ভরে ফেলা হচ্ছে। নির্মানাধীন বহুতল ভবনের মালিকগন সেখানে পাইলিং দিয়ে নির্মান সামগ্রী রেখেছেন। যা ধীরে ধীরে পুকুরে পড়বে। তারা নতুন এসে এখনই পুকুর দখলে প্রভাব খাটাচ্ছে। তিনি বলেন, ঝাউতলা পুকুর স্থিতিঅবস্থা রাখতে হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের কারেন এটি ডোবায় পরিনত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি ভবন মালিকদের এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করায় তারা পুকুরের ভেতরের পাইলিং খুলে নেয়াসহ নির্মানসামগ্রী সরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এর আগেও একটি পক্ষ মোটা অংকের টাকায় পুকুরটি কিনতে চাওয়ায় তারা এখন আর ভরাস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা বিমল মুখার্জী বলেন, পুকুরের পাড়ের ফাঁকা জায়গায় পাইলিং দিয়েছে নির্মানাধীন একটি ভবনের মালিকরা। অনেক পুকুরের ক্ষেত্রে দেখা যায় ইট-সুরকি রাখতে রাখতে ভরাট হয়ে যায়। এই পুকরের অবস্থাও একই রকম হচ্ছে। যারা এমনটা ঘটিয়েছে তাদের বিষয়টি বলায় বেশ উত্তেজিতও হয়ে উঠেছেন।
নির্মানাধীন ওই ভবনের একজন অংশিদার সুভাশিষ বলেন, তিনি পুকুরের একাংশ দখলের বিষয়টি জানেন না। এটি তার দেখারও বিষয় নয়। তিনি ভবনের একটি পক্ষ মাত্র। নির্মানাধীন ভবনের স্টোরকিপার সঞ্জয় সাংবাদিকদের বলেন, তারা পুকুর পাড়ে যে পাইলিং দিয়েছেন এবং নির্মান সামগ্রী রেখেছেন তা সরিয়ে ফেলবেন।
এসব প্রসঙ্গে পরিবেশ আইনবীদ সমিতি (বেলা) এর বরিশালের সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, ঝাউতলা পুকুর নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর আকার কোনভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। দখলদারদের দমনে পরিবেশ অধিদপ্তরকে পদক্ষেপ নিতে হবে। সিটি করপোরেশন এটি সংস্কারেরও পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি বলেন, বেলা প্রয়োজনে এ নিয়ে আইনী পদক্ষেপ নিবে।
তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো: আ: হালিম বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে এলাকাবাসী আদালতে যাবেন। আমার কাছে কি। ওই পুকর দখল হলেও আমার কোন দায়িত্ব নেই। তবে আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী নইমুল হোসেন লিটু বলেন, মেয়র সাদিক প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন যে নগরীর ৫টি পুকুর সংস্কার করা হবে। ঝাউতলা দ্বিতীয় গলির এ পুকরটিও এর আওতায় পড়েছে। এই পুকরটি জমিদারের প্রদত্ত পুকুর। এটি বহু আগে কেনাবেচা এবং হাতবদলের চেস্টা চলেছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে। এখন এটি দখল চেস্টার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *