নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালে উজিরপুর উপজেলায় গুঠিয়া ইউনিয়নের বৈরকাঠী গ্রামে একটি চার্চের দখল নিয়ে খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের দুপক্ষ মুখোমুখী অবস্থান নিয়েছে। হামলা-পাল্টা হামলায় প্রায়সই সেখানে অপ্রীতিরক ঘটনা ঘটছে। চার্চ কম্পউন্ডোর ভেতরে অবস্থান নেয়া খ্রীষ্টানদের দাবী, তাদের সম্প্রদায়েরই একটি পক্ষ চার্চের জমি দখল করতে একের পর এক হামলা করছে। সন্ত্রাসীদের মহড়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন সেখানকার যাজকসহ অন্যরা। অপরপক্ষের দাবী, যাজকসহ একটি পক্ষ চার্চের নিয়ন্ত্রন কুক্ষিগত করে রাখায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
গুঠিয়া ইউনিয়নের বৈরকাঠি গ্রামে প্রায় ৩ একর জমির ওপর খ্রীস্টানদের তীর্থস্থান চন্দ্রকান্ত মেমোরিয়াল চার্চ’র স্থাপিত হয় ১৯৭৪ বছর আগে। চার্চের যাজক ফিলিপ বিশ্বাস বলেন, প্রয়াত হৃদয় রঞ্জন সমদ্দার ধর্ম প্রচারকদের রাতযাপন ও আহার গ্রহনের উদ্দেশ্যে চার্চটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি দেশে খ্রীষ্টানদের চার্চের মূল তিনটি কেন্দ্রের একটি। যিনি ধর্ম প্রচারক, বিয়ে-সংসার থেকে দূরে থেকে ‘একমাত্র যিশুর প্রেমে সহভাগিতামÐলীর সম্পূর্ণ পৈরিতিক ও ভাববাদিক শিক্ষার ভিত্তিমূলে’ চলবে, একমাত্র তারাই এ চার্চে থাকতে পারবেন। এ বিশ্বাস ও শিক্ষা থেকে বেরিয়ে ভ্রান্তপথে চলে যাওয়া একটি চক্র চার্চকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা হাই কোর্টের নির্দেশনা অমান্য ও জালিয়াতি করে চার্চ দখলের চেস্টা করছে। সেখানে থাকা ১০ জন যাজক চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এ নিয়ে মামলা চলমান অবস্থায় আদালতের আদেশ অমান্য করে ওই পক্ষটি চার্চের মধ্যে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে। যাজকরা যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তা ধর্ম মন্ত্রাণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ফিলিপ বিশ্বাস অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের মদদে খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বি মিল্টন সমদ্দার, লিটন সমদ্দার, সৈকত সমদ্দার, অসিম সমদ্দার কুডু, তিমন সমদ্দার ও দ্বিজেন সমদ্দার ও বাপ্পি সরকার এসব করছেন। তারা সব সময় সন্ত্রাসী নিয়ে চার্চে মহড়া দিচ্ছে।
তবে মিল্টন সমাদ্দার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি চার্চ প্রতিষ্ঠাতার ভাইয়ের ছেলে। আমাদের চার্চে ঢুকতে দেয়া হয় না। আমাদের বাড়ি থেকে চার্চে ঢোকার গেটটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তার দাবী, চার্চে মাত্র একজন যাজক। অন্যরা যাজক পরিচয় দিয়ে চলেন। তারা চার্চের জমি দখল করতে এসব করছেন। তিনি বলেন, তারা চাচ্ছেন চার্চটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাক। সাইনবোর্ড লাগানোর বিষয়ে মিল্টন বলেন, আদালতে রীটের আদেশ তার পক্ষে যাওয়ায় তিনি সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছেন।
গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, চার্চের নিয়ন্ত্রন নিয়ে ভেতরে এবং বাইরে থাকা খ্রীষ্টানদের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘবছর বিরোধ চলছে। একাধিকবার শালিস করেও বিষয়টি সুরাহা করতে পারেননি। দখল পাল্টা দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও অনাকাংক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি সতর্ক আছেন বলে চেয়ারম্যান দাবী করেন।
২০২০-০১-১৯
