পুলক চ্যাটাজি, অতিথি রিপোর্টার : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ন সুন্দরকাঠী খালে বাঁধ দেয়া হচ্ছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধের অজুহাত তুলে সুন্দরকাঠী বাজারের কতিপয় ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় মোল্লা পরিবারের উদ্যেগে চাঁদা তুলে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটিতে দুমাস ধরে বাঁধ দেয়ার কাজ চললেও উপজেলা প্রশাসন কিম্বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাঁধা দেয়া হয়নি। খালটিতে বাঁধ নির্মানের ফলে বাকেরগঞ্জের পূর্বাঞ্চলের ৫ ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ নৌপথে পণ্য ও মালামাল পরিবহনে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। অপরদিকে বাঁধের কারনে হ্রাস পাচ্ছে খালের নাব্যতা। এতে ভবিষ্যতে খালটি মরে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, প্রবাহমান নদী বা খালে বাঁধ দেয়া বেআইনী। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বরিশাল নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ধান-নদী-খালের বরিশাল থেকে খাল হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষি ও পরিবহন বান্ধব খালগুলো নানাভাবে বন্ধ হওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে প্রান্তিক জনপদে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর হওয়া উচিত।
বাকেরগঞ্জের পান্ডব নদী থেকে ওঠে ‘ভাড়ানী খাল’ নামে পরিচিত ১৫০ ফুট প্রশস্ততার সুন্দরকাঠী খালটি মিশেছে দুধল ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি নদীর সঙ্গে। এ খালটি দিয়ে উপজেলার দূর্গাপাশা, ফরিদপুর, দাড়িয়াল, দুধল ও কবাই ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে ইটভাটা মালিকরা নিয়মিত মালামাল পরিবহন করেন। উপজেলার প্রসিদ্ধ সাপ্তাহিক বাজার কলসকাঠী, কালিগঞ্জ, বোয়ালিয়া, শতরাজ, পেয়ারপুর ও নীলগঞ্জ হাটে সাধারন মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ধান-চাল, আসবাবপত্র, মুদী-মনোহরিসহ ভারি পণ্য খালটি দিয়ে পরিবহন করেন। কিন্ত বাঁধ দেয়ার ফলে এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে।

ফরিদপুর ইউনিয়নের ইটভাটা মালিক ফরহাদ হোসেন ও ব্যবসায়ী আবুল বাশার অভিযোগ করেন, ভাড়াণী খালে (সুন্দরকাঠী খাল) বাঁধ নির্মান করায় বিকল্প নদীপথে ১০ কিলোমিটার ঘুরে উল্লেখিত বাজারগুলোতে ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে যেমন বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে তেমনি পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে।
সুন্দরকাঠী বাজার সংলগ্ন যে স্থানে বাঁধ দেয়া হচ্ছে সেটি উপজেলার দুধল ইউনিয়নের আওতাধীন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গজরাী গাছের পাইলিং দিয়ে বালির বস্তা ও ইটের খোয়া ফেলে বাঁধ দেয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাঁধ দেয়ার কাজ শুরু হয়। সুন্দরকাঠী বাজার সংলগ্ন স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের দাবী, খালটি খর¯্রােতা। এ কারনে দুইপাশের ঘরবাড়ি ও বাজার ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এজন্য বাজারের ব্যবসায়ী এবং প্রভাবশালী মোল্লা পরিবারের উদ্যেগে প্রায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলে বাঁধটি দেয়া হচ্ছে।
সুন্দরকাঠী বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্যই খালটিতে বাঁধ দেয়া হচ্ছে। এজন্য স্থানীয় জহির মোল্লার নির্দেশে চাঁদা তুলে বাঁধ নির্মান কাজ চলছে। তবে অনেকের অভিযোগ, প্রভাবশালী মোল্লা পরিবার খালের জমি দখল করার জন্য স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মান করছেন। তবে সামনে তুলে ধরা হয়েছে ভাঙ্গন প্রতিরোধের অজুহাত। এ বিষয়ে জহির মোল্লা বলেন, স্থানীয় কিছু পরিবারের জমি রক্ষার জন্য বাঁধটি দেয়া হচ্ছে। যাতে আমাদের সমর্থন ছিল। তবে খালের জন্য আমরা ক্ষতিগ্রস্থ না। অহেতুক অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।
বাঁধ নির্মান প্রসঙ্গে দুধল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, খালের ভাঙ্গনে স্থানীয় লোকজনের জমি ও বসতবাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ায় অস্থায়ীভাবে বাঁধটি দেয়া হচ্ছে। তবে চেয়ারম্যান গোলাম মোর্শেদ বলেন, সরকারি খালে বাঁধ দেয়ার সুযোগ নেই। যা হচ্ছে তা বেআইনী।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরকাঠী খালে বেআইনীভাবে বাঁধ দেয়ার কথা শুনেছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই ওই বাঁধ অপসারন করা হবে।##
