কস্টে আছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা

Spread the love

সৈয়দ জুয়েল: চাইতেও পারেননা, কেউ দিলেও নিতে পারেন না। এরকম শক্তিশালী ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষরাই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের মানুষ। জীবনের অনেক চড়াই উতরাই পেড়িয়ে নিজের আতœসম্মানবোধকে নিয়ে গেছেন ঈর্ষনীয় এক চুঁড়ায়,সে মধ্য নিম্নবিত্তের মানুষগুলি ভাল নেই এ করোনা ভাইরাসের প্রকোপে।
উচ্চবিত্তদের আগামী অনেকদিন অলস সময় কাটালেও তার জীবন যাপনের উপর কোন বিরুপ প্রভাব পরবে না। আবার হত দরিদ্র মানুষদের পাশে সরকারী অনুদানের পাশাপাশি আছে বেসরকারী অনেক সংস্থাার নজর কারা সহায়তা। কেউ কেউ ব্যাক্তিগত ভাবেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এটা অবশ্যই প্রশংসার যে আমাদের ভিতর মানবতাবোধ জাগ্রত হয়ে আলো ছড়াচ্ছে সমাজের এই হত দরিদ্রের মাঝে। কিন্তু সমাজের সবচেয়ে বড় একটা অংশ নিম্ন মধ্যবিত্তের দূর্দশার কথা আমরা কতটুকু যানি? প্রতিমাসে ১০থেকে ২০ হাজার টাকার আয়ের এ পরিবারগুলো বাড়ী ভাড়া, বিদ্যুত বিল,খাবার,চিকিৎসা,সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হত, তারপরও তারা কারো কাছে হাত না পেতে নিজের ব্যাক্তিত্বকে সুরক্ষা করেছেন প্রতিনিয়ত। পৃথিবীময় যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তার প্রভাব পরছে অর্থনীতিতেও। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে,আবার কিছু বন্ধের অপেক্ষায়। এ সুযোগে আবার প্রতিস্ঠিত কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের বেতন না দিয়ে বাড়তি ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন। আর এতে সবচেয়ে বেশী ক্ষগ্রস্থ হচ্ছেন নিম্ন মধ্যবিত্তরা। আবার কোন কোন লোভী ব্যাবসায়ীরা এই করোনা ভাইরাসের মহামারি শেষে ব্যাবসায় মন্দার অজুহাতে কর্মী ছাটাইয়ের কাজও করবেন বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যার বড় একটা ধাক্কা আসবে এই নিম্ন মধ্যবিত্তের উপর।
তাই বর্তমান আর ভবিষ্যত নিয়ে চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় আছেন সমাজের সবচেয়ে আলোকিত মানুষ নামের নিম্ন মধ্যবিত্তরা। কর্মহীন এ মানুষগুলো আয় ব্যায়ের হিসেব কষতে দূর্বল হয়ে যাচ্ছে চিন্তা শক্তির প্রতিটি জায়গা। সবচেয়ে হতাশার কথা-যে প্রতিস্ঠান গুলোতে এত বছর নিজের প্রতিস্ঠানের মত করে নিজের যোগ্যতা,শ্রম,ভালবাসা দিয়ে আগলে রেখে সফলতা এনে দিয়েছেন প্রতিনিয়ত।
আজ অধিকাংশ প্রতিস্ঠানের কর্নধার তাদের একটু খোঁজ নেয়ারও প্রয়োজন বোধ করেননা। জীবন কখনো থেমে থাকবেনা, হতাশার কুঁয়াশাচ্ছন্ন মেঘ কেটে আবার নুতন সূর্য উঠবে,হেসে উঠবে প্রকৃতির সবগুলো সতেজ দূর্বাঘাষ,যেখানে এক ফোঁটা শিঁশির বিন্দুও মুক্তার দানার মত জ্বলজ্বল করবে। তখন দূর্যোগের সময়কারের কথা ভেবে নিস্পলক খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া খুড়িয়ে খুড়িয়ে জীবন যুদ্ধের পাশে না পাওয়া মুখগুলোর কথা মনে করে করুন দীর্ঘশ্বাস ঝরে পরবে বিবেকের অবচেতন মনে। তারপরও সব ভূলে আবারও দায়িত্ব বোধ নিয়ে কাজে ঝাপিয়ে পরবে এ সকল নিম্ন মধ্যবিত্তের দায়িত্ববোধের রাজপ্রসাদের রাজারা।
দূর্যোগ কাটিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে হয়তো সময় একটু বেশী-ই লাগবে, তবে তাদের মেধা, শ্রম, ব্যাক্তিত্বের উপর ভর করে এগিয়ে যাবে বীরদর্পে। নিয়ে আসবে সাফল্যের হারিয়ে যাওয়া পথের প্রতিটি বাঁক। যে বাঁকের প্রতিটি ভাজে থাকে তাদের সততা, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ, মমত্ববোধ, আর ভালবসার বিস্তীর্ণ স্পর্শ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *