বরিশালে ৬ রোগীর করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ৬জন সন্দেহভাজন করোনা রোগীর ড্রপলেট পরীক্ষার রিপোর্ট আইইডিসিআর থেকে শনিবার শেবাচিমে এসে পৌছেছে। ওই ৬ রোগীর কেউ করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। তাদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নিগেটিভ এসেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন, শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন। এদিকে নানা কারনে শনিবার শেবাচিমে বসানো পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিনে করোনা পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নবনির্মিত একটি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে করোনা ইউনিট। এ পর্যন্ত এই ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন মোট ১০ জন রোগী। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২ জন এবং ৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গতকাল শনিবার পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ জন। হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, যে দুজন মারা গেছেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী। ভুলক্রমে তাকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। মারা যাওয়া অপরজন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বাসিন্দা জাকির হোসেনের করোনা সংক্রান্ত সব উপসর্গই ছিল। গত ২৯ মার্চ মারা যাওয়া ওই দুজনসহ মোট ৬ জনের ড্রপলেট ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষার জন্য। শনিবার সকালে পরীক্ষার রিপোর্ট এসে পৌছেছে। ওই ৬ জনের সকলের রিপোর্টের ফলাফল নেগেটিভ।
শেবাচিমে’র করোনা ইউনিটের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের উপ পরিচালক অধ্যপক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন জানান, শনিবার দুজন রোগী করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাছাড়া গতকাল সুস্থ হয়ে ৩ জন বাড়ি চলে গেছেন। এখন ভর্তি আছেন দুজন। তাদের ড্রপলেট আইই্িডসিআরে পাঠানো হবে।
এদিকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ ভবনের দ্বিতীয় তলায় পিসিআর মেশিন বসানোর জন্য কক্ষ তৈরীর কাজ শেষের পথে। তবে মেশিণ আসার পর থেকেই কলেজের ভাইরোলজি বিভাগে চিকিৎসক টেকনিশিয়ানদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ভীতির কারনে স্বেচ্ছায় চাকুরী থেকে অবসরগ্রহনের আবেদন জানিয়েছেন মাইক্রোবায়োলজী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম.টি জাহাঙ্গীর হুসাইন। গত ৩০ মার্চ পিসিআর মেশিনটি শেবামেকে পৌঁছার পর পরই তিনি চাকুরি থেকে অবসরকালিন ছুটিতে (এলপিআর) যেতে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে চলমান করোনা দুর্যোগ মোকাবেলার স্বার্থে তার ওই আবেদনটি গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর হুসাইন বলেছেন, তার চাকুরী আছে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরিবারের চাপে তিনি অবসরকালিন ছুটির আবেদন করেছেন। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, পরীক্ষাগার প্রস্তুতের জন্য পিসিআর মেশিণ গতকাল থেকে পরীক্ষা শুরু করতে পারেনি। আগামী ৭/৮ এপ্রিলের মধ্যে শেবাচিমে করোনা পরীক্ষা শুরু হবে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. অসীত ভূষণ দাস বলেন, ভাইরাস পরীক্ষাগারের নিরাপত্তার বিষয়টি জরুরী। তাই গণপূর্ত বিভাগ সেই বিষয়টিকে বিশেষ বিবেচনায় রেখে কাজ করছে। আমরাও চেষ্টা করছি যত দ্রæত সম্ভব করোনা ভাইরাস পরীক্ষাগার প্রস্তুত করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *