সৈয়দ জুয়েল: স্কুল জীবন থেকেই যে মানুষটি জনগনের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন, জীবনের বড় একটি অংশ জেলখানার চার দেয়ালে কাটিয়েছেন, যার ডাকে লক্ষ লক্ষ জনতা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিলেন, তেমনই একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে সপরিবারে হত্যা করে বিপথগামী সেনারা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ পূর্নগঠনে যে মানুষটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য নিয়ে দেশ গঠনে কাজ শুরু করেছিলেন, ঠিক তখনই খুনীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ ১৬ জন পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে জাতিকে পিছিয়ে দিয়ে যে ক্ষতের সৃস্টি করেছিলো তার দগদগে ঘা এখনো শুকায়নি। শনিবার সেই রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট। এমন জঘন্য হত্যাকান্ড থেকে কলংকমুক্ত হতে আর কত অপেক্ষা করতে হবে তা জানতে চান এদেশের মানুষ।
এখনও আমরা মৌলিক অধিকার নিয়ে আন্দোলন করি রাজপথে। স্বাধীন দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান দেশ গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, তার জীবদ্দশায় যদি তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারতেন, তাহলে বাংলাদেশ এক সমৃদ্ধশালী দেশের স্বীকৃতি পেত অনেক আগেই। যে কোন হত্যারই বিচার চাওয়া- এটা নাগরিকের অধিকার।
কিন্তু ১৫ই আগস্টের এই নারকীয় হত্যার বিচারও চাইতে পারবেন না বলে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন পরবর্তী ক্ষমতাধারীরা। অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় এসে সেই ইনডেমিনিটি সংসদ সদস্যদের ভোটে বাতিল হয়, যদিও এটা পরবর্তী সরকারেরই করার কথা ছিল। এরপরে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অনেক খুনীর ফাঁসি হলেও এখনো পালিয়ে আছেন বেশ কিছু খুনী। চেস্টা চলছে তাদেরও নিয়ে আসার। ১৫ই আগস্টের এই দিনে- পালিয়ে থাকা খুনীদের নিয়ে এসে ফাঁসি কার্যকর করে জাতিকে কলংকমুক্ত করা জরুরী বলে মনে করছেন রাস্ট্রের নাগরিকরা। এই দাবীতে শনিবার সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও বঙ্গবন্ধুর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নানা কর্মসুচী গ্রহন করা হয়েছে। শোকের এ মাসে পুরো জাতি স্মরন করবেন বঙ্গবন্ধুকে।
