নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালে বিএনপির একক আধিপত্যের নেতা কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্ব আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছেন দলের একটি গ্রুপ। তারা দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় বিএনপিতে সরোয়ার বিরোধী হিসাবে পরিচিত। সরোয়ার বিরোধীরা সাবেক সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামালকে আহ্বয়ক ও বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি মহসিন মন্টুকে সদস্য সচিব করে নগরের একটি আহ্বয়ক কমিটি কেন্দ্রে পেশ করেছেন। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে দলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছে।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত আহ্বায়ক কমিটি দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর কাছে দেয়া হয়েছে। তিনি বরিশাল বিএনপির পূনর্গঠনে কেন্দ্র থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। তবে ঢাকায় অবস্থানকারী আহসান হাবিব কামাল মুঠোফোনে কেন্দ্রে কোন কমিটি দেয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
আহসান হাবিব কামাল ২০০৩ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিএনপিতে প্রবল প্রতাপশালী নেতা ছিলেন। ওই বছর বরিশাল সিটির প্রথম নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বহিস্কার হন আহসান হাবিব কামাল। ২০১০ সালে পূনরায় দলে ফিরেন এবং ২০১৩ সালে দলীয় মনোয়ননে কামাল সিটি মেয়র নির্বাচিত হন। তবে কামাল বহিস্কৃতবস্থায় অপ্রতিদ্বন্দ্বি সরোয়ার দলের মধ্যে শক্ত অবস্থান করে নেন। যে কারনে কামাল মেয়র নির্বাচিত হয়েও দলের মধ্যে হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারেননি।
সম্প্রতি সাবেক ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে দলের মধ্যে মজিবর রহমান সরোয়ার বিরোধী একটি বলয় সক্রিয় হওয়ার পাশাপশি আহসান হাবিব কামালও দলে হারানো পদ পুনরুদ্ধারে তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। ২০১৮ সালে মেয়র পদের মেয়াদ শেষে তিনি বরিশালের রাজনীতিতে অনুপস্থিত। সম্প্রতি তাকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্রে একটি কমিটি প্রস্তাবের গুঞ্জন ওঠায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আহসান হাবিব কামাল। অপরদিকে এক সময়ে সরোয়ার বিরোধী বলয়ের শীর্ষ নেতা মহসিন মন্টু এক পর্যায়ে সরোয়ারের সঙ্গে একাট্রা হয়ে সর্বশেষ ২০১৩ সালে পূর্নাঙ্গভাবে গঠিত নগর কমিটিতে সহ সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন।
এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু বলেন, ২০১৩ সালে গঠিত নগর কমিটির মেয়াদ কয়েক বছর আগে শেষ হয়েছে। এ কমিটির অনেকে মৃত্যুবরন করেছেন। অনেক যোগ্য নেতা পদহীন। এসব নিয়ে দলের মধ্যে রাগ-ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাই এখন সকলে চান নতুন কমিটি। মন্টু দাবী করেন, সাবেক মেয়র কামাল কেন্দ্রে নগর বিএনপির কমিটির প্রস্তাব পাঠিয়েছে কিনা তা তার জানা নেই। তবে কেউ স্বউদ্যেগে তার নাম প্রস্তাব করলে তিনি প্রতিবাদ করবেন না। সাবেক ছাত্রনেতাদের একাট্রা হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা একত্রিত হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা-বৈঠক করছে, ওই পর্যন্তই’।
সাবেক ছাত্রদল নেতারা সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন। এ উদ্যেগের অন্যতম ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আ ন ম সাইফুল আহসান আজিম বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তারা এক ধরনের গেইম খেলছেন। তিনি বলেন, ‘দল লোক পায় না, তাই কামাল ভাইয়ের মত বহিস্কৃত লোককে টেনে আনার চেস্টা চলছে’। ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আতায়ে রাব্বি বলেন, সাবেক ছাত্রনেতারা বিএনপিকে গতিশীল করতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে চান। নগর বিএনপিতে হুট করে কাউকে বসিয়ে দেয়া হোক তা মানবেন না তারা।
সরোয়ার বলয়ের নেতা মহানগর বিএনপির সহ সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, নগর বিএনপি তার নিজ গতিতে চলছে। যারা দলের কর্মসুচীতে আসেন না, তারা কেন দুরে থেকে তৎপরতা চালাচ্ছেন? সাবেক মেয়র কামালের বিরুদ্ধে দল বিরোধী অনেক অভিযোগ আছে। তিনি নগর বিএনপির কমিটির প্রস্তাবনা পাঠানোর কেউ নন।
এব্যপারে বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, নতুন কমিটি নিয়ে কেন্দ্রে কোন আলোচনা হয়নি। তাই কারো কমিটির প্রস্তাব পাঠানোর এখতিয়ার নেই। সাবেক মেয়র কামালের সঙ্গে এ বিষয়ে তার কথাও হয়নি। সাবেক ছাত্রদল নেতাদের একাট্রা হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে কিছু আছে যারা দলের জন্য কোন কাজ করেন না। আগে তাদের কাজ করতে হবে।
