খরা কাটিয়ে বড় ইলিশের দেখা

Spread the love

খান রফিক:
খরা কাটিয়ে সুখবর দেখা দিয়েছে রুপালী ইলিশের। গত দু’দিন ধরে প্রচুর সাগরের ইলিশ আসা শুরু করেছে বরিশাল মৎস্য মোকামে। এর একটি অংশ বড় আকারের ইলিশ। তবে এখনই ইলিশ সস্তা বলা যাচ্ছে না। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাগরে টানা ৬৫দিনের নিষেধাজ্ঞার ফল স্বরুপ এখন বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে। ইলিশ ব্যাপক ধরা পড়লে এবং দর পতন ঘটলে মৎস্য ব্যবসায়ীরা এবছর ইলিশ রপ্তানির দাবীও তুলবেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বরিশালের স্থানীয় বাজারে সংকট থাকায় ইলিশ রপ্তানির সুযোগ নাকচ করে দিয়েছেন সংশ্লিস্টরা।

বৃহস্পতিবার বরিশাল ইলিশ মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রান ফিরেছে মোকামে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৫ দিনে ইলিশের দেখা মেলেনি। বৈরী আবহাওয়ায় সাগরেই যেতে পারেনি জেলেরা। এখন সাগর থেকে ইলিশ নিয়ে ফেরা শুরু করেছে। মোকাম ঘুরে বেশি নজের পড়েছে বড় আকারের ইলিশের। এসব ইলিশ নগরীর অলি গলিতেও খুচরা বিক্রেতাদের বেচাকেনা করতে দেখা গেছে।
জানতে চাইলে বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড: বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ভরা মৌসূমে খরা কাটিয়ে আবার ধরা পড়ছে রুপালী ইলিশ। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইলিশের দেখা মেলেনি। এখন যা আসছে এগুলো সাগরের ও সাগর মোহনা থেকে এসেছে। গতকালও মোকামে সাগরের এই ইলিশ গড়ে কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়।

মৎস্য কর্মকর্তা ড: বিমল বলেন, এবার ইলিশের সাইজও বেশ বড়। তিনি বলেন, যেহেতু হাজার মন ইলিশ আসা শুরু করেছে সেহেতু সুদিন উকি দিচ্ছে। বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ারর কারন হিসেবে তিনি বলেন, সমুদ্রে ৬৫দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বড় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। বার্মা থেকে ২ বছর আগে এধরনের বড় বড় ইলিশ আসতো। তখন ১ কেজি সাইজের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হত হাজার টাকার উপরে। গত দুই দিনে সেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে। তিনি বলেন, ইলিশ ব্যাপক হারে ধরা পড়লে এবার রপ্তানি খুলে দেয়ার দাবী তুলবে বলে আড়তাররা জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা আশায় আছেন ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়লে এবং দাম কেজি প্রতি ৩০০-৪০০ টাকায় নামলে রপ্তানির জোর দাবি তুলবেন। এর যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে ড: বিমল বলেন, ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়লে বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার জন্য সরকার এটি হয়তো চিন্তা করবে।

জানতে চাইলে বরিশাল মৎস্য আড়তদার সমিতির অফিস সেক্রেটারী মো: রানা বলেন, দুই দিন ধরে ইলিশ আসা শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার প্রায় ৯০০ মন ইলিশ মোকামে উঠেছে। বুধবার আমাদানী হয়েছিল ১ হাজার মনের মত। দামও সহনশীল। তিনি বলেন, সাগরের এবং সাগর মোহনায় এই ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ভোলা সংলগ্ন মেঘনার শেষ সীমানা ঢাল চরে বড় ইলিশ ধরা পড়ছে। এর আকার ১ কেজি থেকে দেড় কেজি। কেজি সাইজের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। তিনি বলেন, একটু বেশি বড় ইলিশ দেখা যাচ্ছে। গত দুই দিনে সাগর থেকে ৬-৭টি বোট এসেছে। তার ধারনা ইলিশ আমদানী আর কমবে না বরং বাড়বে।

রপ্তানীর দাবী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে মাছ ভরপুর থাকলে রপ্তানি করলে বৈদেশিক মুদ্রা আসবে। একটা সময় ইলিশের দাম ৪০০ টাকা কেজি হলে রপ্তানি করার কথা ভাবতেই পারেন ব্যবসায়ীরা।

বরিশাল মৎস্য মোকামের আড়তদার ইয়ার উদ্দিন বলেন, দুই দিন ধরে সাগরের ইলিশ আসা শুরু করেছে। এর মধ্যে বড় সাইজের ইলিশ বেশ নজরে পড়েছে। তিনি আসা করেন, শিঘ্রই ইলিশের বাজার জমে উঠবে।

এব্যপারে বরিশাল জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা এ এস এম হাসান সারোয়ার শিবলি বলেন, ইলিশের স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর রপ্তানি করার চিন্তা করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের লোকাল বাজারেই ইলিশের সংকট। রপ্তানি করার ইলিশ কোথায়। যখন প্রচুর ইলিশ ধরা পরবে, ব্যাপক উদ্বৃত্ত থাকবে এবং দাম কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমে আসবে তখন হয়তো রপ্তানির চিন্তা করবে সরকার। তবে এখনই এটি চিন্তা করার কোন ধরনের সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *