পেনশন আটকে উৎকোচ দাবী, ওজোপাডিকো এমডিকে দুদকের নোটিশ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: উৎকোচ না দেয়ায় অবসরপ্রাপ্ত একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর পেনশনের টাকা আটকে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর (ওজোপাডিকো) ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে। মোহাম্মদ আলী নামে দ্বীপ জেলা ভোলার ওজোপাডিকো এর সাবেক ওই নির্বাহী প্রকৌশলী দাবী করেছেন উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে তাকে অবসরে পাঠানো হয়। পেনশন বাবদ টাকা পরিশোধের জন্য ২ লাখ টাকা উৎকোচ চান ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো: শফিক উদ্দিন। এমনকি বিধি অনুযায়ী চাকরির মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধির জন্যও তিনি ৫ লাখ টাকা উৎকোচ দাবী করেন। উৎকোচ না দেয়ায় এখনও তাকে প্রায় ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এর প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন ঘটনার শিকার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী। জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুদক ওই অভিযোগের জবাব চেয়ে ওজোপাডিকোর সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাকে নোটিশ করেছেন।


জানতে চাইলে ওজোপাডিকো খুলনার ডিজিএম (এডমিন) মো: আলমগীর কবির বলেছেন, গত পরশু দিন( বৃহস্পতিবার) দুদক থেকে এ সংক্রান্ত নোটিশ পেয়েছেন। দুদক এ বিষয়ে জানতে জবাব চেয়েছে। এর প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে উৎকোচ চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে এভাবে অভিযোগ তোলা ঠিক নয়। তাছাড়া ভোলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে।


ঘটনার শিকার ভোলার ওজোপাডিকো এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী দুদকে প্রদান করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় ভোলায় ৩টি সোর্স এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হত। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দুটি বন্ধ হয়ে যায়। তিনি ভোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য ওই দুটি সোর্স চালু করতে প্রাক্যলন তৈরি ও বাজেট চান উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। একই বছরের আগস্টে সবশেষ সোর্স ভোলা রেন্টাল পাওয়ার হাউজও বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়। এ অবস্থায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিজেদের নিরাপদ রাখতে তাকে বরখাস্ত করেন।


মোহাম্মদ আলী এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দাখিল করলে (৮৩৬২/২০১৩) তার সাময়িক বরখাস্ত বেআইনী বলে তা স্থগিতর আদেশ দেন। ২০১৭ সালে তিনি অবসরে গেলে তার অবসরের টাকা দিতে গরিমসি করে সংশ্লিস্টরা। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তার পেনশনের টাকা পরিশোধের জন্য পটুয়াখালী সার্কেল সুপারিশ করেন ওজোপাডিকোর নির্বাহী পরিচালক(অর্থ) কে।
সুপারিশ সম্বলিত ফাইল সহ তিনি ওজোপাডিকোর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) শরিফ উদ্দিনের সাথে দেখা করলে ছুটি নগদায়ন বাবদ ২ লাখ টাকা উৎকোচ দাবী করেন তিনি। উৎকোচ প্রদান সাপেক্ষে গ্রাচুয়িটিসহ অন্যান্য খাতের অর্থ প্রদান করা হবে বলে ব্যাবস্থাপনা পরিচালক শরিফ উদ্দিন সাফ জানিয়ে দেন।


নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, ঘুষ না দেয়ায় আড়াই বছর পর তার গ্রাচ্যুয়িটি থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা কর্তন করে ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এখনও তার নিজের জমাকৃত ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেনি ওজোপাডিকো।


অবসারের আগ মুহর্তে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বিধি অনুযায়ী তার চাকরির মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধির জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা দাখিল করলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তখনও ৫ লাখ টাকা উৎকোচ দাবী করেন। অথচ ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক উদ্দিনেরও একই বিধিতে চাকরির দেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ওজোপডিকো এমডি মো: সফিক উদ্দিনকে উৎকোচ চাওয়ার বিষয় অভিযুক্ত করে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রæয়ারী দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের কমিশনার (অনুসন্ধান) বরাবর বকেয়া অর্থ পাওয়ার জন্য অভিযোগ দায়ের করেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশন তার ওই অভিযোগ জানতে ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শফিক উদ্দিন সহ সংশ্লিস্টদের কাছে এ বিষয়ে জবাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে বলে তাকে দুদকের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে।


এব্যপারে ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো: শফিক উদ্দিন কে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি এই প্রতিবেদককে দুই বার পাল্টা ক্ষুদে বার্তা দিয়ে এড়িয়ে গিয়েছেন। ক্ষুদে বার্তায় পরে কল দেয়ার কথা বললেও আর ফোন দেননি এমডি শফিক উদ্দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *