৪ শিশুর বিরুদ্ধে ধষন মামলা স্থগিত : বিচারকের বিরুদ্ধে হাইকোটের রুল

Spread the love

নাগরিক ডেস্ক : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় চার শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে হওয়া মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার শিশুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশদাতা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এছাড়া শিশুদেরকে তাদের অভিভাবকসহ নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিতে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বলেছেন আদালত।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত আগামী ২২ নভেম্বর আদেশের পরবর্তী তারিখ রেখেছেন।
বেসরকারি একটি টেলিভিশনে আসা সংবাদ বিবেচনায় নিয়ে ৮ অক্টোবর রাতে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন। রুলে শিশু আদালতের মামলার কার্যক্রম বিচারিক আদালতে পরিচালার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। শিশুদের জামিন, মুক্তি ও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাসে করে যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে চার শিশু,তাদের অভিভাবক, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি, থানার শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, জেলা প্রবেশন অফিসারকে ১১ অক্টোবর আদালতে হাজির হতে বলা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুসারে সংশ্লিষ্টরা আজ আদালতে হাজির হন।

প্রথমে শিশুদের আদালতের খাসকামরায় নেওয়া হয়। এরপর আদালত দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শুরু করেন। চার শিশুর অভিভাবক, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি, থানার শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, জেলা প্রবেশন অফিসারের বক্তব্য শোনেন আদালত। পরে আদালত আদেশ দেন। আদালতে শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী উপস্থিত ছিল।

৪ অক্টোবর বাকেরগঞ্জে ছয় বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে কন্যাশিশুটির বাবা বাদী হয়ে ৬ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় কন্যাশিশুটির খেলার সঙ্গী চার শিশুকে আসামি করা হয়। মামলার পর ওই চার শিশুকে গ্রেপ্তার করে বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনায়েতউল্লাহ ওই চার শিশুকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে চার শিশুকে গত শুক্রবার সকালে তাদের অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

চার শিশুর স্বজনদের দাবি, মামলায় এসব শিশুর বয়স ১০ থেকে ১১ বছর উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের বয়স ৮ থেকে ৯ বছরের মধ্যে। ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মূলত জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *