যেকারনে বার বার হারছে নৌকা মেহেন্দীগঞ্জে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালের মেঘনা নদী ঘেরা মেহেন্দীগঞ্জে গত ক’দিন ধরে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এর কারন হিসেবে জানা গেছে, সেখানকার পূনর্গঠিত দুই ইউনিয়ন উলানিয়ার উত্তর ও দক্ষিনে চলছে ইউপি নির্বাচন। ইতোমধ্যে দক্ষিনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। অপরদিকে উত্তরেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, দলের একাংশের ইন্দনে বারবার মেহেন্দীগঞ্জে নৌকার প্রার্থী হারছে। ইতোমধ্যে একই উপজেলার ৫ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদে আ’লীগ মনোনিত প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয় লাভ করেছেন দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থী। এবারও একই অবস্থা সৃস্টির আশংকা করে বরিশাল জেলা আ’লীগ বলেছেন, তারা আইনশৃংখলার অবনতির বিষয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন।


মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া ইউনিয়ন বিভক্ত করে নবগঠিত উত্তর উলানিয়া ও দক্ষিন উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। রোববার প্রতিদ্ব›িদ্বতাকারী চেয়ারমান ও মেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়পত্র গ্রহন করা হয়। এরই জের ধরে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হালিম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমা সরদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।


নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী আব্দুল হালিম বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমা সরদারের সমর্থকরা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তার বসতঘর ব্যাপক ভাংচুর এবং সমর্থকদের মারধর করেছে। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের অনুসারী। তবে স্বতন্ত্র প্রার্র্থী রুমা সরদারের ছেলে তারেক সরদার বলেন, নৌকার প্রার্থী কাজী আব্দুল হালিমের বাড়ি অতিক্রমকালে তার কর্মী সমর্থকরা রুমা সরদারের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনা প্রতিপক্ষের ওপর চাপাতে আব্দুল হালিম নিজের বসতঘর ভাংচুর ও পুলিশের মোটরসাইকেল ভাংচুর করেছে।


জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক এবং মেহেন্দীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. মনসুর আহমেদ বলেন, তার উলানিয়ার নতুন ২ ইউনিয়নেই নির্বাচন হচ্ছে। সেখানকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। দুটি ইউনিয়ন দক্ষিন উলানীয়া এবং উত্তর উলানিয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ইন্দনে বিদ্রোহী প্রার্থীর বেপেরোয়া হয়ে উঠেছে। যেকারনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা আ’লীগের প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তারা দুই ইউনিয়নেই দলের বিরুদ্ধে উস্কানিমুলক শ্লোগানও দিচ্ছে। তিনি সেখানে পুলিশের ভুমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তারা স্বরাস্ট্রমন্ত্রীকে পরিস্থিতি অবহিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েও পায়নি। এদের ইন্দন দিচ্ছে স্থানীয় আ’লীগের একাংশ। এর আগে মেহেন্দীগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তিনিসহ ৬টি ইউনিয়ন আ’লীগের নৌকা প্রার্থী হেরেছে তাদের কারনেই।


একই সংসদীয় আসনের হিজলার ধুলখোলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মাতব্বর বলেন, ২০১৭ সালের নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতিক পেয়েছিলেন। এমপি পংকজ নাথ সেখানে আনারস মার্কার বিদ্রোহী দেন। যেকারনে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করে। স্থানীয় এমপি পংকজ নাথ এ পর্যন্ত ৮জন নৌকার প্রার্থীকে হারিয়েছে। উত্তর ও দক্ষিনেও হারাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
মেহেন্দগিঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক কামাল উদ্দিন খান বলেন, এই নির্বাচনেও ইন্দন আছে দলীয় লোকজনের। আমরা উর্ধ্বন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এটি উচ্চ লেভেলের খেলা। যেকারনে নৌকা হেরে যাচ্ছে।


তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ অনুসারী উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম ভুলু বলেন, বিতর্কিতদের উলানিয়ায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যেকারনে সেখানে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জেলা আ’লীগ তৃনমুলের নেতাকর্মীদের মুল্যয়ন করে না। তৃনমুলের মতামত নেয় না, তাই এখানে বার বার নৌকার ভরাডুবি হচ্ছে। এমনকি স্থানীয় এমপি পংকজ নাথেরও মতামত নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, এমপি পংকজের বিরোধীতা করতে হবে তাই দুর্বল প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয় মেহেন্দীগঞ্জে।


এপ্রসঙ্গে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাড. তালুকদার মো: ইউনুস বলেন, মেহেন্দীগঞ্জে একটি অপশক্তি মুখে আ’লীগ বললেও, বাস্তবে আ’লীগের আদর্শে বিশ্বাস করে না। উলানীয়র দুই ইউনিয়েন ব্যক্তি বিশেষের ইন্দনে প্রার্থী হয়েছে বিদ্রোহীরা। যারা মনোনয়ন চেয়েছিল তারাই যদি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করে তাহলে তা হবে আ’লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। মেহেন্দীগঞ্জে এবারও ওই অপশক্তি সংগঠনকে চ্যালেঞ্জ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এব্যপারে মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবিদুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সোমবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উলানিয়ার উত্তর ও দক্ষিনের নির্বাচনী পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *