নাগরিক ডেস্ক: মাধ্যমিকে পর এবার প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীকেও ‘অটোপাস’ দিয়ে পরের শ্রেণিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে সরকার। আনুষ্ঠানিক কোনো পরীক্ষা ছাড়াই পাস করিয়ে সবারই আগের রোল নম্বর বহাল থাকবে। তবে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মূল্যায়ন ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে তোলা হবে এবং চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যয়ন করা হবে।
মাধ্যমিকে পর এবার প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীকেও ‘অটোপাস’ দিয়ে পরের শ্রেণিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে সরকার। আনুষ্ঠানিক কোনো পরীক্ষা ছাড়াই পাস করিয়ে সবারই আগের রোল নম্বর বহাল থাকবে।
তবে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মূল্যায়ন ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে তোলা হবে এবং চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যয়ন করা হবে। সেক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণির নিজ নিজ শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করবেন। এর মাধ্যমে কার কতোটুকু ঘাটতি থাকল, পরের বছর কতোটুকু শেখাতে হবে, তার মূল্যয়ন করা হবে। সোমবার (২৩ নভেম্বর) এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্ব স্ব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরের শ্রেণিতে তুলতে বলা হয়েছে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মূল্যায়ন ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে তোলা হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকে যারা ওপরের শ্রেণিতে উঠবে, তাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে পরের শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে।
সংসদ টেলিভিশন ও বেতারে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিপাঠ প্রচার করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসার কাজ সম্পন্ন করছেন। টেলিফোনের মাধ্যমেও অনেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সহায়তা করছেন। এসবের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়নের মাধ্যমে চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণি থেকে পরের শ্রেণিতে তোলা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, কিছু বিষয় মূল্যায়ন করা হলেও তা পরের শ্রেণিতে ওঠার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না। এবার আনুষ্ঠানিক কোনো পরীক্ষা হচ্ছে না, এটা মাথায় রেখেই মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের আগের (এবারের) রোল নম্বরই ফলো করবেন, সবাই পরের ক্লাসে প্রমোশন পাবে।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মূল্যায়নের কাজ শুরু হবে। একজন শিক্ষার্থীর পরবর্তী শ্রেণির জন্য যতোটুকু জ্ঞান থাকার দরকার, তা আছে কি না, না থাকলে তাকে যা শিখতে হবে, সে বিষয়ে শিক্ষকরা পরামর্শ ও সহায়তা দেবেন। আগামী বছরের ১ জানুয়ারির মধ্যে এ কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। কওমি মাদ্রাসা ছাড়া অন্যসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী এবং স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা নিচ্ছে না সরকার। উচ্চ মাধ্যমিকেও এবার চূড়ান্ত কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নেয়া যায়নি। এইচএসসি ও সমমানের ফল ঘোষণা করা হবে শিক্ষার্থীদের অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে।
