সৈয়দ জুয়েল: নিজের আর পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার চাকা ঘুরাতে দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি দেয়া প্রবাসীদের জীবন কি আসলেই রঙিন? বাবা, মা, ভাই, বোন, আত্বীয় স্বজনের মায়া আর সাথে দেশের মাটির মায়া, এত ত্যাগে প্রবাসীদের প্রাপ্তি কতটুকু! আয় ব্যায়ের হিসেব মিললেও প্রাপ্তির জায়গাগুলো বেশ নড় বরে।
ইউরোপের কথাই যদি ধরি- অনেক বছর খাঁটুনির পরে বয়সের ভাড়ে ন্যূয়ে পরার আগেই দেশের মাটির দিকে ন্যূয়ে পরে অনেক প্রবাসীর মন। শরীরে যত রোগ বাসা বাঁধতে থাকে, মৃত্যুর পরের জনমে দেশের সাড়ে তিন হাত মাটির বিছানায় বসবাসে ততই অস্থির অবুঝ মন। টগবগে যৌবন থেকে খসে যে মানুষটি বার্ধক্যে পরেও- দেশের ও পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড শক্তিশালী করতে নিজের মেরুদন্ড বাঁকা করলো, মৃত্যুকালে সে বাঁকা মেরুদন্ড দেশের মাটিতে ঠাঁই কি বেশি চাওয়া!
তাহলে কি পেল প্রবাসীরা! দেশে ছুটিতে গেলে আত্বীয়, পরশীরা জিজ্ঞাসা করে কতদিন পর যাবে? আবার প্রবাসে থাকাকালীন বিদেশীরা জিজ্ঞেস করে- তোমার দেশে যাবে কখন? প্রবাসীদের কি আদৌ কি কোন দেশ আছে! ভাড়াটিয়াদের মত প্রবাসীদের জীবন, আজ এক জায়গা, তো কাল আরেক জায়গা। জীবদ্দশায় যেমন অনিশ্চিত গন্তব্যে এলোমেলো চলা, তেমনি জীবন বাতি নিভে যাওয়ার পরে-অন্ধকার মাটির একটু খানি ঘর নিয়েও অনিশ্চয়তা।
অথচঃ দেশের মানুষ এই অনিশ্চয়তার প্রবাসীদেরকে ভেবে থাকেন কত সুখে আছে! আসলেই কি তারা সুখে আছে? সুখের সংজ্ঞা যদি হয় অর্থ উপার্জন,তাহলে তো সুখেই আছে প্রবাসীরা! এ বছরেই আয়ারল্যান্ডে এক ভাইয়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশে তার মায়ের ইচ্ছে ছিলো-ছেলের লাশটি দেশে পাঠানোর জন্য। শেষবারের মত সন্তানের মুখটি দেখার,খুব বেশি চাওয়া ছিলনা মায়ের। অনেক ভাইয়েরা চেস্টাও করেছিলেন লাশটি দেশে তার মায়ের কাছে পাঠাতে, সম্ভব হয়নি। এটাই প্রবাস।
আমরা কেউ-ই জানিনা আমাদের লাশের খাঁটিয়ার গন্তব্য কোথায় গিয়ে থামবে। প্রবাসে দেশের মাটির গন্ধ নেই,যে পথে প্রতিনিয়ত হাঁটা হয় প্রতিদিনই মনে হয় নতুন অচেনা পথ। রাস্তার পাশের বাড়ীগুলোও পরিচিত নয়। অথচ: বিশ বছর পরে দেশে গেলেও মাটির গন্ধ চিনিয়ে দেয়-এ আমার জন্মভূমির পথ, রাস্তার ধারের বাড়ীগুলো দেখলে মনে হয় এখানের বাসিন্দাদের সাথে আমার হাজার বছরের পরিচয়। মাটির টান বড়ই অদ্ভূত, সে জন্মে বা মৃত্যে।
ক্ষুদ্র পাখিও তার আবাসস্থল ছাড়তে রাজি নয়,ঝড় বৃস্টিতে ক্ষতি হলেও তার জায়গায়ই আবার বুনে ঘর। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলেও তাদের তৈরি করা ঘরটিতেই মরিবার সাধ জাগে। প্রবাসীদের সাধ কি পাখিদের সাধের চেয়েও দূর্বল!
