কীর্তনখোলার মাঝে বিদ্যুৎ টাওয়ারের বিম, ঝুকিতে নৌপথ

Spread the love

খান রফিক:
নদীভাঙ্গনে ভেঙ্গে পড়া বিদ্যুতের টাওয়ারের বিম অপসারন না করায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে বরিশাল হয়ে মোংলা সমুদ্র বন্দর নৌপথ ঝুকির্পূন হয়ে পড়েছে। বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন কীর্তণখোলা নদীর তীরে স্থাপিত বিশাল টাওয়ারটি কয়েক মাস আগে ভেঙ্গে পড়ে নদীর মুল চ্যানেলে চলে এসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ রহস্যজনক কারনে কারনে সেটি অপসারন করেনি। টাওয়ারটির ৪টি বিশালাকৃতির বিম এখন কীর্তণখোলা নদীর পানির ওপর জেগে আছে। ফলে যাত্রীবাহি ও পণ্যবাহি সকল ধরনের নৌযানগুলোকে ওই এলাকা অতিক্রম করতে হচ্ছে ভয়াবহ ঝুকি নিয়ে। ফলে চলমান শীত মৌসুমে কুয়াশার মধ্যে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন নৌযান সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিস্টরা নদীর গুরুত্বপূর্ন এ চ্যানেলটি ঝুকিপূর্ন হওয়ার জন্য বিআইডবিøউটিএ এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে দায়ী করেছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন সংস্থা (বিআইডবিøউটিএ) সুত্রে জানা গেছে, কীর্তনখোলা নদীর তীরে স্থাপিত বিদ্যুতের টাওয়ারটি প্রায় ৪ মাস আগে ভেঙ্গে পড়ে। ওই স্থানটি বরিশাল নদীবন্দর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দুরে। ঢাকা ও চট্রগ্রাম থেকে বরিশাল এবং খুলনা ও মোংলা বন্দর রুটের যাত্রীবাহি ও পণ্যবাহি নৌযান এ রুট দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।

ঢাকা-বরিশাল রুটের যাত্রীবাহি লঞ্চ এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চের মাস্টার মজিবর রহমান বলেন, ভেঙ্গেপড়া টাওয়ারটির ৪টি বিম নদীর মুল চ্যানেলের মধ্যে চলে এসেছে। এখন ওই এলাকায় লঞ্চ চলাচল করতে হয় ঝুকি নিয়ে। বিআইডব্লিউটিএ সেখানে সতর্কতা চিহৃ ব্যবহার করলেও চলতি কুয়াশায় দুর্ঘটনা ঘটা অসম্ভব নয়। তাছাড়া একাধিক নৌযান চলাচলের সময় চরম বেগ পেতে হয়।

বিআইডব্লিউটিএর পাইলট শাখার পরির্দশক ও প্রধান পাইলট মৌজে আলী সিকদার বলেন, নদীভাঙ্গনের কারনে টাওয়ারটি ভেঙ্গে পড়েছে। টাওয়ারের ৪টি বিম অপসারনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। নৌযানগুলো এ এলাকা সতর্কভাবে অতিক্রম করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ ঘটনাস্থলে বিকন বাতি স্থাপন ও লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছে। মৌজে আলী জানান, টাওয়ারের ৪টি বিম পানির উপরে জেগে আছে। সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর পানি রয়েছে। কিন্তু ভিমগুলো প্রায় ১২০ ফুট নিচে বসানো রয়েছে। এগুলো উঠাতে হলে বড় ধরনের প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে।

চরবাড়িয়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাহিন খান বলেন, টাওয়ারের ভীমগুলো যেভাবে নদীতে জেগে আছে, কুয়শায় দিক হারিয়ে নৌযানগুলো যেকোন সময় সেগুলোর ওপর আছড়ে পড়তে পারে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ওই স্থানটিতে নৌদূর্ঘটনা ঘটেছে।

এ প্রসঙ্গে অভ্যন্তরীন লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, কীর্তনখোলার চরবাড়িয়া পয়েন্ট ভয়াবহ মরন ফাঁদ। বিদ্যুতের টাওয়ার পরে থাকায় ওই স্থান থেকে লঞ্চ সহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বিপদজনক। তিনি এজন্য বিআইডব্লিউটিএ এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে দায়ী করেন।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ন পরিচালক (সিএমপি) আজগর আলী বলেন, দূর্ঘটনা প্রতিরোধে টাওয়ারে ওপর বিকন বাতি স্থাপন ও লাল নিশানা টানিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া টাওয়ারের পানির ওপরে থাকা অংশে ডায়মন্ড উজ্জ্বল রং দিয়েছেন যাতে নৌযানের সার্চ লাইট পড়লেই ওই স্থানটি বোঝা যায়। তিনি বলেন, নি:সন্দেহে ওই চ্যানেলটি ঝুকিপূর্ন এবং যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু বিদ্যুত বিভাগ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আ: মান্নান বলেন, নদীতে পড়ে যাওয়া ওই টাওয়ারটি তাদের নয়। এটি বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রীড কোম্পানীর। তবে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রীড কোম্পানীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আক্তারুজ্জামান পলাশ বলেন, যে ৪টি বিম নদীতে পড়ে আছে সেগুলোকে টাওয়ার লেক বলা হয়। আর এর দৃশ্যমান অংশ হচ্ছে পাইল ক্যাপ। এ বিষয়ে বিআইডবিøউটিএকে বলায় তারা বিকন বাতি বসিয়েছেন। তারাও দৃশ্যমান রং দিয়েছেন। তার মতে, নিচের অংশ নদীর অনেক তলদেশে হওয়ায় বিমগুলো ওঠানো যাবে না।

নির্বাহী প্রকৌশলীর এ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি বলেন, পদ্মা নদীতে সেতু স্থাপন করা গেলে বিদ্যুতের টাওয়ার কেন অপসারন করা যাবেনা? নদীর মুল চ্যানেলে এভাবে বিদ্যুতের টাওয়ার পরে থাকতে পারে না। তিনি এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *