নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ৫টি কলোনীতে কয়েক হাজার হতদরিদ্র পরিবার বাস করেন। যারা নগরবাসীর কাছে বস্তিবাসী হিসাবে পরিচিত। স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের খোলা বাজারে ন্যার্য্যমূল্যে চাল-আটা বিক্রি করতে এ ওয়ার্ডে ২জন তালিকাভূক্ত ডিলার আছেন। স্থানীয় খাদ্য অধিদপ্তর দুজনেরই সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় ওয়ার্ডটির কয়েক হাজার হতদরিদ্র পরিবার স্বল্পমূল্যে চাল-আটা ক্রয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। আবার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে হতদরিদ্রদের আবাসন কলোনী নেই একটিও। সে হিসাবে ওয়ার্ডটি স্বচ্ছলদের বসবাসের সংখ্যাই বেশী। অথচ ১২ নম্বর ওয়ার্ডে চাল-আটা বিক্রি করছেন ২জন ডিলার। নগরীতে হতদরিদ্রদের বড় আবাসস্থল হিসাবে পরিচিত রসুলপুর ও হাটখোলা বস্তি। ৯ নম্বর ওয়ার্ডভূক্ত এলাকায় চাল-আটা বিক্রি বন্ধ প্রায় দুইমাস।
এসবের কারন জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা ডিলাররা বলেন, ‘আমরা বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের ঘুষ বানিজ্যের শিকার। চাহিদামতো ঘুষ দিতে না পারায় নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদেরসহ নগরীর বেশীরভাগ ডিলারের চাল-আটা বন্ধ করে দিয়েছেন’।
ডিলাররা বলেন, খাদ্য কর্মকর্তার খামখেয়ালীতে তারা যেমন ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অপরদিকে স্বল্প আয়ের মানুষেরা বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যার্য্যমূল্যে চাল-আটা ক্রয়ের সুবিধা থেকে। এর প্রতিকার চেয়ে ডিলরারা খাদ্য মন্ত্রাণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
খাদ্য সচিবের বরাবর দেয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, খাদ্য পরিদর্শক মৌসুমী আক্তার আঞ্চলিক কর্মকর্তা আঞ্চলিক কর্মকর্তার প্রধান দালাল। তিনি আঞ্চলিক কর্মকর্তার নামে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবী করেন।
ডিলারদের এসব অস্বীকার করে আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, বরিশাল নগরীতে ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য ডিলার আছেন ১৯ জন। রোটেশন প্রথায় প্রতিদিন বরাদ্দ দেয়া হয় ৭ জনকে। নগরীর সব এলাকার মানুষকে এ সুবিধার আওতায় আনার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি ডিলারদের এলাকা বন্টন করে দিয়েছেন। অনেক ডিলার দোকানঘর না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে অন্য এলাকায় যেতে চাচ্ছেন না। আবার অনেকের বিরুদ্ধে কালোবাজারে মাল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব কারনে কয়েকজন ডিলারের সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, ডিলাররা তাদের অনিয়ম ধামাচাপা দিতেই ঘুষবানিজ্যের মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।
১০ নম্বর ওয়ার্ডে দুই ডিলারের মধ্যে মিজানুর রহমান বলেন, তাকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডে যেতে বলেছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তা। রাজী না হওয়ায় তার সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয় তিন মাস আগে। ওই ওয়ার্ডের আরেক ডিলার আলমগীর হোসেন বলেন, তার ডিলার ঘর ভাটাখালে। তাকে চাঁদমারী এলাকায় গিয়ে বড় ঘর নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তিনিও রাজী না হওয়ায় দুই মাস আগে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, কালোবাজারে মাল বিক্রির অভিযোগে ডিলার আলমগীরকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিলেই তাকে পূনরায় চাল-ডাল সরবরাহ করা হবে।
ভূক্তভোগী ডিলাররা বলেন, বড় দোকানঘর নেয়া কিম্বা প্রধান সড়কের পাশে ঘর নিতে হবে- এসব অজুহাত দেখিয়ে যখন-তখন ডিলারদের সরবরাহ বন্ধ করে দেন আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা। তার নিয়োজিত দালালদের মাধ্যমে ৫-১০ হাজার টাকা ঘুষ দিলেই আবার সরবরাহ চালু হয়ে যায়।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার শেখ মাসুদ রানা বলেন, তার দোকাঘর হচ্ছে বরিশাল নগরীর প্রধান চালের মোকাম ফরিয়াপট্রিতে। তাকে পোর্ট রোডে ঘর নেয়ার নির্দেশ দিয়ে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার সায়েমসহ অন্যান্য ডিলাররা বলেন, আগে প্রতিদিন ৭ জন ডিলার ২ হাজার কেজি করে আটা ও চাল পেতেন। এ নিয়মে প্রত্যেক ডিলার সপ্তাহের দুইদিনে মোট বরাদ্দ পেতেন মোট ৪ হাজার কেজি আটা-চাল। আঞ্চলিক কর্মকর্তা নতুন নিয়ম করে সকল ডিলারকে সপ্তাহে ৬দিন বরাদ্দ দিচ্ছেন। কিন্ত সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে তাদের চাপ দেয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ন ব্যবসায়িক এলাকায় দোকানঘর নেয়ার জন্য। ব্যবসায়িকভাবে লোকসানের মুখে থাকায় তাদের পক্ষে এ সিদ্ধান্ত মানা সম্ভব না।
এ প্রসঙ্গে আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, বরিশাল বিভাগীয় শহর হলেও কেন্দ্র থেকে সরবরাহ চাল-আটার বরাদ্দ অনেক কম। এজন্য ডিলারদের চাহিদামতো সরবরাহ দিতে পারছেন না। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রে চিঠি চালাচালি চলছে।##
২০২০-১২-২১
