সন্তানের মুখ দেখতে না পারার আক্ষেপে হাউমাউ করে কাঁদলেন সোহাগ

Spread the love

নাগরিক ডেস্ক : ‘কয়েকদিন পরেই আমার প্রথম সন্তানের জন্ম হবে, আমি সন্তানের মুখ দেখতে পারবোনা’- একথা বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন সোহাগ খান। এসময় পাশে বসা সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম ও বৃদ্ধা মা মাকসুদা বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও কান্না সংবরন করতে পারেননি।
তারা বলেন, সোহাগ খান ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষ ব্যক্তি। সন্ত্রাসীরা তার দুটি চোঁখ নষ্ট করে দেয়ায় পরিবারটির জীবিকা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্ত হয়ে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। ফলে সোহাগের গোটা পরিবার এখন আতংকের মধ্যে আছেন।
গতকাল সোমবার বরিশাল প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন সন্ত্রাসী হামলায় চোঁখ হারানো সোহাগ খান ও তার পরিবার। সোহাগের বোন মুন্না আক্তার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সোহাগ (২৫) বরিশাল নগরীর কীর্তণখোলা তীর সংলগ্ন মোহাম্মদপুর চরের বাসিন্দা। ফেরী করে ভাঙ্গারী সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের তিন সহোদর গত ৪ ডিসেম্বর সোহাগ খানের ওপর হামলা করে তার দুই চোখ নষ্ট করে দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ বলেন, চরের খাসজমি নিয়ে একই এলাকার মোবারক হোসেনের পরিবারের সঙ্গে তাদের ৬/৭ বছর যাবত বিরোধ চলছে। কয়েক বছর আগে তাদের জমি দখল করে নিয়েছে মোবারক হোসেনের পরিবার। এনিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার সময় নগরীর হাটখোলা হকার্স মার্কেটে সোহাগের ওপর হামলা চালায় মোবারকের তিনপুত্র সাইফুল, আল আমিন ও রাব্বী। সাইফুল ও রাব্বী তাকে চেপে ধরলে আল আমিন মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে খুচিয়ে সোহাগের দুটি চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। ওই তিনজন সহ তাদের বড় ভাই নাজমুলকে আসামী করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছ্।ে
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আল আমিন ও সোহাগকে গ্রেফতার করে। তারা অর্থের জোরে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছে। আসামী অপর দুই ভাইকে পুলিশ গ্রেফতার করছেনা। আসামীরা তাদের প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেয়ার জন্য।
এ অভিযোগ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী মডেল থানার উপ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার হওয়া দুই ভাই আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছে। আসামী অপর দুইভাইও আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে এ মামলায় তাদের পূনরায় গ্রেফতার করার সুযোগ নেই।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *