বরিশাল বিভাগের ২৭ নদী খননে পরিকল্পনা

Spread the love


নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল বিভাগের ২৭টি নদীর ১ হাজার ৪৭৫ কিলোমিটার নৌপথ খনন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় বিভাগে ৩টি নতুন লঞ্চঘাট স্থাপনসহ পুরানো ১১২টি ঘাট সংস্কার করে মনোন্নয়ন করা হবে। বিআইডব্লিউটিএ এ লক্ষ্যে বৃহৎ একটি প্রকল্প গ্রহন করেছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর বরিশাল সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।

বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য ফিদা খান, বিআইডবিøউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম তালুকদার, বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, ঝালকাঠীর জেলা প্রশাসক মো. জহুর আলী, বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন, লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য সাইদুর রহমান রিন্টু প্রমুখ।

নদীবেশিস্টত বরিশালের নদীপথের উন্নয়নে এ প্রকল্পের নামকরন করা হয়েছে- জানা গেছে, ‘বরিশাল বিভাগের নদীসমুহের নাব্যতা বৃদ্ধি, জলবদ্ধতা হ্রাস, জলাভূমি বাস্ত পুনরুদ্ধার, সেচ ও ল্যান্ডিং সুবিধাদি বৃদ্ধি করে নদী ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্যতা যাচাই’।

কর্মশালায় জানানো হয়- বরিশাল বিভাগের ২৭টি নদীর ১ হাজার ৪৭৫ নৌপথ খনন করে ৪২ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি অপসারন করা হবে। এসব নদী ৭ বছর সংরক্ষনকালে অপসারন করা হবে আরও ১৭০ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি। এ প্রকল্পের আওতায় বরিশাল বিভাগে ৩টি নতুন লঞ্চঘাট স্থাপন করা হবে। পুরানো ৬০টি লঞ্চঘাট, ১১টি কার্গোঘাট, ৩৮টি খেয়াঘাট এবং ৩টি পর্যটন ঘাটসহ মোট ১১২টি ঘাটের সংস্কার করে মনোন্নয়ন করা হবে। খনন করা পলি নদী তীরবর্তী জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে জনকল্যানে ব্যবহার করা হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিস্টরা জানান।

প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি. নৌযান মালিকরা এ কর্মশালায় অংশগ্রহন করে তাদের মতামত দেন। এসময় বক্তারা বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন করলেই নদী রক্ষা হয় না। এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান পেতে হলে প্রতিটি নদীর উৎস্য ও পতনমুখ খনন করে গভীর করতে হবে। ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চের মালিকরা বলেন, নদী খনন কার্যক্রমে নৌযান মালিকদের সংম্পৃক্ত করা হয় না। ফলে কতটুকু খনন প্রয়োজন, কতটুকু করা হয় তা অজানাই থেকে।

এসব মতামতের জবাবে প্রধান অতিথি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, দীর্ঘ বছর রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে অনেক নৌপথই এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী ইশতাহারে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ উন্নয়নের কথা বলেছেন। বিশ্বে দ্বিতীয় কোন নজীর নেই যেখানে নির্বাচনী ইশতেহারে নৌপথ উন্নয়ন যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বরিশালের কীর্তনখোলা নদী সহ সারা দেশে নদীর অবৈধ দখলকারীদের হাত থেকে মুক্ত করা হবে। নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারীও দেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *